পহেলা বৈশাখ ঘিরে ইলিশের বাজারে সিন্ডিকেট, কারসাজিতে দামে অস্থিরতা

পহেলা বৈশাখ বা বাঙালির বর্সবরণের উৎসবের বাকি এখনো দুই সপ্তাহ। এর মধ্যেই ইলিশ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ সিন্ডিকেট। চলছে দামের কারসাজি।
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ঢাকার ইলিশের বাজারে গত এক সপ্তাহ থেকে দামের ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।
এক সপ্তাহ আগে (২৪-২৫ মার্চ) সরবরাহ সংকটের মধ্যে ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ২,৪০০ থেকে ২,৬০০ টাকা। ৫ দিন আগে (২৬-২৭ মার্চ) সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম সামান্য কমে ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় নামলেও আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বৈশাখি উৎসবের চাহিদা টার্গেট করে তা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ২,২০০ থেকে ৩,১০০ টাকায় ঠেকেছে ইলিশের বাজারে ঘাপটি মেরে থাকা সিন্ডিকেটের কারসাজিতে।
বিশেষ করে দেড় কেজি বা তার বেশি ওজনের বড় ইলিশের দাম আজ ৪,০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।ঢাকার খুচরা বাজারের এই চড়া দামের প্রভাব সরাসরি পড়ছে পাইকারি আড়তগুলোতেও।
ভিওডি বাংলার চাঁদপুর ও বরিশাল প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোরে চাঁদপুর মাছ ঘাট ও বরিশাল পোর্ট রোডে ১ কেজি ওজনের ইলিশ পাইকারি দরে ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০০ টাকা বেশি।
বরিশালের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ও বৈশাখ উৎসবের কারণে আড়তে মাছের সংকট রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে রাজধানীর বাজারে।
এদিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, "মাঝারি ও ছোট ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় আজ ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের মাছের দাম কিছুটা কম। ১,৪০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি করছি। কিন্তু বড় মাছের দাম আমাদের হাতে নেই।"
অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বাজারে আসা এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এক সপ্তাহ আগেও যে দামে মাছ দেখে গেছি, আজ পহেলা বৈশাখের দোহাই দিয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে।"
তবে ৫ দিন আগের তুলনায় ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম আজ কিছুটা স্থিতিশীল (১,২০০-১,৫৫০ টাকা) থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা ছোট মাছের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
বরগুনার পাথরঘাটা থেকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য বন্দরে ইলিশের বাজারে রীতিমতো আগুন লেগেছে। চার দিন আগে থেকেই বাজারে ইলিশের দাম নিয়ে কারসাজি লক্ষ্য করা গেছে।
আমাদের বরগুনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরে ১ কেজি ৭৬৫ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ মাছ ৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মণ হিসেবে এই মাছের দাম পড়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরের মুন্নি ফিশ আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য আনা হলে স্থানীয় পাইকারদের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। খোলা ডাকে অংশ নেন একাধিক ব্যবসায়ী। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পাইকার ও মার্চেন্ট ফিস ব্যবসায়ী আলহাজ্ব জাকির হোসেন মাছটি ক্রয় করেন।
পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন জানান, বর্তমানে বাজারে ইলিশের সরবরাহ অত্যন্ত কম। সাগরে মাছ ধরা পড়ছে না বললেই চলে। আজ সকালে বলেশ্বর নদীতে ধরা পড়া এই ইলিশটি তাই বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে বড় আকারের ইলিশের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। একইসঙ্গে ছোট আকারের জাটকা ইলিশও প্রতি মণ প্রায় ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা আলহাজ্ব জাকির হোসেন বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বড় ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকায় আমি খোলা ডাকে সর্বোচ্চ দাম দিয়ে মাছটি কিনেছি। এটি ইতোমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, সেখানে আরও ভালো দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, আগামী মাসে মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করবে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞা জেলেরা সঠিকভাবে পালন করলে ভবিষ্যতে সমুদ্র ও নদীতে এ ধরনের বড় আকারের মাছ আরও বেশি পাওয়া যাবে।
ভিওডি বাংলা/আরআর







