গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে, উঠবে না সংসদে

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং কোনগুলো হবে না। ওই বৈঠকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ছিল ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ সংসদে বিল আকারে উত্থাপন না করার। বিশেষ কমিটির সদস্যরা মনে করেন, গণভোট ইতোমধ্যেই ব্যবহার হয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে একই অধীনে আর কোনো গণভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে কমিটির বৈঠক জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া বৈঠক প্রায় তিন ঘণ্টা চলেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যরা। বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান জানান, গণভোটের সঙ্গে পুরো জাতি যুক্ত। তিনি বলেন, “গণভোট বাতিল করা হলে, একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনও বৈধ থাকবে কি না-এটি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে, তাই গণভোটের ফল কার্যকর করতে হবে।”
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। “অধিকার রক্ষা ও আইন প্রণয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে বিল আকারে সংসদে আনার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি আর রেটিফিকেশনের অপেক্ষা করবে না।”
বৈঠকে বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই করা অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ সংশোধনসহ উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। তবে কিছু অধ্যাদেশে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু অধ্যাদেশ পাস করতে চাইছে। তবে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে-এতে আমরা ছাড় দেব না। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় এবং বিচারপতি নিয়োগ বাছাই কমিটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা বিরোধী দল প্রত্যাখ্যান করেছে।”
বৈঠকে কমিটির সদস্যরা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছেন। বাকি অধ্যাদেশগুলোতে জনগণের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সংসদে উত্থাপন করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কিছু অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে, যা ভোটাভুটি ও বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে আইন আকারে গৃহীত হবে। বিরোধী ও সরকারি দলের নোট অব ডিসেন্ট রিপোর্টে প্রতিফলিত হবে।”
বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে অধ্যাদেশগুলো জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ-সেগুলো সংসদে পুনরায় আলোচনার জন্য উঠবে। অন্যদিকে গণভোট অধ্যাদেশকে বিল আকারে আনার প্রয়োজন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, যেসব অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল আকারে আনা সম্ভব হবে না, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (ল্যাপস) হয়ে যাবে। তবে প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে আবার বিল হিসেবে উত্থাপন করা হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







