লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত

রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রস্তাবিত কয়েকজনকে রাষ্ট্রদূত করার উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে বর্তমান সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শুরু হওয়া লামিয়া মোর্শেদ, ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং সেলিম উদ্দিন-এর রাষ্ট্রদূত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
চলতি মাসের শুরুতে পাঁচটি দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার প্রত্যাহারের বিষয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে পেশাদার কূটনীতিকদের অগ্রাধিকার দিতেই এই নীতিগত পরিবর্তন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় বেশ কিছু রাষ্ট্রদূত নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই তালিকায় ছিলেন লামিয়া মোর্শেদ, যিনি ইউরোপে, বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসে দায়িত্ব পেতে আগ্রহী ছিলেন। তাকে রাষ্ট্রদূত করতে ডাচ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা ‘এগ্রিমো’ চাওয়া হয়। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সেখান থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
গত বছরের নভেম্বরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও এ নিয়োগ আর চূড়ান্ত হয়নি।
একইভাবে, ডেনমার্কে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তা আর এগোয়নি। পরে ইরানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার জন্য এগ্রিমো চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির কারণে সেখানে যেতে অনাগ্রহ দেখান তিনি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রদূত পদ পেতে ড. নিয়াজ বিভিন্ন সময়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগও করেছিলেন। এমনকি তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও জানা যায়। তবুও শেষ পর্যন্ত তার নিয়োগ আর বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, সাবেক বাণিজ্য সচিব সেলিম উদ্দিনকে মিশরে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর জন্য গত বছরের অক্টোবরে এগ্রিমো চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কায়রো থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর কূটনৈতিক নিয়োগে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে। নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ইতোমধ্যে পেশাদার কূটনীতিক ফাইয়াজ মুর্শিদ কাজীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে থাইল্যান্ডে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ডাচ সরকারের সম্মতিও পাওয়া গেছে। আগামী মে-জুন নাগাদ তিনি হেগে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগ থেকে সরে আসার বিষয়টি পরোক্ষভাবে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি এক লিখিত বক্তব্যে জানান, আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কারণে নেওয়া নিয়োগ সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনার কোনো পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের নেই।
ভিওডি বাংলা/জা







