মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারির জন্য যুক্তরাষ্ট্র নামাল মানববিহীন ড্রোন নৌযান

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো মানববিহীন ড্রোন নৌযান ব্যবহার করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নজরদারি ও টহল জোরদার করতে এসব স্পিডবোট মোতায়েন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। পেন্টাগনের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনাইসেন্স ক্রাফট’ (জিএআরসি) নামের এসব ড্রোন নৌযান ইতিমধ্যে ৪৫০ ঘণ্টার বেশি সময় সমুদ্রে টহল দিয়েছে এবং ২ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ অতিক্রম করেছে।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন ধরনের মানববিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠে চলাচলকারী জিএআরসি ড্রোন নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই নৌযানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
ড্রোন নৌযানের বৈশিষ্ট্য:
জিএআরসি হল একটি ছোট আকারের, প্রায় পাঁচ মিটার দীর্ঘ দ্রুতগামী নৌযান। এটি দূরনিয়ন্ত্রণ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতে পারে। মূলত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও টহলের জন্য তৈরি হলেও প্রযুক্তিগতভাবে এগুলো হামলাতেও ব্যবহারযোগ্য। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সরাসরি আক্রমণে ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধক্ষেত্রে মানববিহীন নৌযানের গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের যুদ্ধে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নৌযান ব্যবহার করে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ক্ষতি করা ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ে। একই সঙ্গে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত দুটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে জড়িত। ফলে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় এই ধরনের প্রযুক্তি নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন নৌযান মোতায়েন মূলত নজরদারি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জিএআরসি নৌযান পরীক্ষার সময় উচ্চগতিতে চলার মধ্যে অন্য একটি নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে পরীক্ষার সময় একটি নৌযান বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র এই ব্যর্থতা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন নৌযান মোতায়েন সমুদ্রভিত্তিক যুদ্ধের নতুন দিক নির্দেশ করছে। বর্তমানে এগুলো মূলত টহল ও নজরদারিতে ব্যবহৃত হলেও, ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও আক্রমণাত্মক ব্যবহার দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
ভিওডি বাংলা/এমএস







