এবার দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে জেনারেল মাসুদকে

মানব পাচার মামলার পর এবার এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মঈনউদ্দীন চৌধুরীর আদালতে এ আবেদন করেন।
সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন রেখেছেন বিচারক।
২০০৭-০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির এমডি। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির টিকেটে ফেনী-৩ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন।
ওই কোম্পানির মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগেইগত ১১ মার্চ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক।
গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং মামলার অন্য আসামিরা ‘পরস্পর যোগসাজশে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার’ করেন।
“তারা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করে মালয়েশিয়া শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ পান। রিক্রুটেড শ্রমিকদের ক্ষতি করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ গ্রহণের অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার দলীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেন। তারা চুক্তিবদ্ধ আইনসঙ্গত পারিশ্রমিক ব্যতীত এবং চুক্তি বহির্ভুত কর্মকাণ্ড করে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করেন।”
আবেদনে বলা হয়, সাত হাজার ১২৪ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন আসামিরা।
“এ অভিযোগে গত ১১ মার্চ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো বিশেষ প্রয়োজন।”
সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে মানব পাচার ও অর্থ আত্মসাতের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করে গোয়েন্দা পুলিশ।
গত বছর ৩ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় এ মামলা দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটার আলতাব খান।
আদালত মঙ্গলবার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পাঁচ দিন রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। রিমান্ড শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে বিক্ষুদ্ধ জনতা তার ওপর ডিম ও ময়লা পানি নিক্ষেপ করে।
ভিওডি বাংলা/আরআর







