তেহরানের আকাশে সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের আকাশে একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি কোনো ধরনের হামলা চালানোর আগেই সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট করা হয়েছে।
রোববার (২২ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ মালিকানাধীন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সামরিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের ওপর ধারাবাহিক বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে এই সাফল্য দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশেষ করে, ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে তেহরানে হামলার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ড্রোন ভূপাতিতের এই দাবি সামনে আসে।
ইরানের সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত শত্রুপক্ষের মোট ১২৭টি উন্নতমানের ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। বিভিন্ন মডেলের এসব ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের সময়ই শনাক্ত করে প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেহরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। শত্রুপক্ষের নজরদারি ও সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে ড্রোন প্রতিহত করার মাধ্যমে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার শক্ত বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েল-এর সামরিক বাহিনী ঘোষণা দেয়, তারা তেহরানের বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে। এই ঘোষণার পরপরই রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দারা একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, তেহরানের আকাশে দফায় দফায় বিস্ফোরণ এবং আগুনের আভা দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, তাদের এই সামরিক অভিযান মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে ইরান এসব হামলার জবাবে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে।
বর্তমানে তেহরানের আকাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ একটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। উভয় পক্ষের পাল্টা পদক্ষেপে উত্তেজনা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন ধ্বংস হয়ে থাকে, তাহলে তা এই সংঘাতের গতিপথে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







