• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন

যেসব কারণে আরও তীব্র হচ্ছে নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রমের ধরনে পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার সাম্প্রতিক পোস্টের ধরণ বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য আঘাত বা মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন হিব্রু ও ইংরেজি ভাষার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময়কার পোস্ট এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া চলমান সংঘাতের সময়কার পোস্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এই পরিবর্তনই নতুন করে নানা প্রশ্ন ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

তাসনিমের হিব্রু ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে নেতানিয়াহু তার ব্যক্তিগত চ্যানেলে প্রায় প্রতিদিনই পোস্ট করতেন। কোনো কোনো দিনে তার পোস্টের সংখ্যা ছয়টিতেও পৌঁছেছিল।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ তিনি তিনটি পোস্ট করেন, ১৪ মার্চ একটি এবং ১৫ মার্চ চারটি পোস্ট দেন। এরপর ২৩ জুন পর্যন্ত পরবর্তী দিনগুলোতে তার পোস্টের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে দুই, এক, চার, তিন, দুই, দুই, ছয় এবং চারটি।

সব মিলিয়ে ওই ১২ দিনের সংঘাতের সময় তার মোট পোস্টের সংখ্যা ছিল ৩২টি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তখন তার বেশিরভাগ পোস্টই ছিল তার নিজের প্রকাশ করা ভিডিও।

কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তার সামাজিক মাধ্যম কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। যদিও বর্তমান সংঘাতটি ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় চার দিন বেশি সময় ধরে চলছে, তবু তার পোস্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিশ্লেষণে তিনটি বড় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমত, আগের সংঘাতে যেখানে তার মোট পোস্ট ছিল ৩২টি, সেখানে চলমান সংঘাতে তা ৫০ শতাংশেরও বেশি কমে ১৫টিতে নেমে এসেছে।

দ্বিতীয়ত, আগের যুদ্ধের সময় তিনি প্রতিদিন অন্তত একটি পোস্ট করলেও এবার প্রায় তিন দিন ধরে তার কোনো নতুন পোস্ট প্রকাশিত হয়নি। এছাড়া কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, সর্বশেষ প্রকাশিত ভিডিওটিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি হতে পারে এবং সেটি বাস্তব নয়।

তৃতীয়ত, আগের সংঘাতে তার বেশিরভাগ পোস্টেই ব্যক্তিগত ভিডিও থাকলেও সাম্প্রতিক পোস্টগুলো মূলত লিখিত। যে অল্প কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলো ঠিক কবে বা কোন পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। ভিডিওগুলোতেও ধারণের তারিখ বা প্রেক্ষাপটের কোনো ইঙ্গিত নেই।

এসব পরিবর্তনের কারণে নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ফলে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য মৃত্যু কিংবা তিনি জীবিত আছেন কি না—এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা অস্বীকার করা হয়নি। আপাতত দৃশ্যমান বিভিন্ন লক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই এসব আলোচনা সামনে আসছে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালায়। এতে সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ অনেকে নিহত ও আহত হন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার দাবিও করে ইরান।

ভিওডি বাংলা/এমএস

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১০৮
ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১০৮
নেতানিয়াহুকে হত্যার অঙ্গীকার আইআরজিসির
নেতানিয়াহুকে হত্যার অঙ্গীকার আইআরজিসির
ইরানকে ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করছে রাশিয়া: জেলেনস্কি
ইরানকে ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করছে রাশিয়া: জেলেনস্কি