• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নির্বাচন ছাড়া ভিন্ন পথ খুঁজতে গেলে সন্দেহের উদ্রেক হবে : আমীর খসরু

   ২৬ জানুয়ারী ২০২৫, ০৪:৫২ পি.এম.

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনগণ তাদের মালিকানা ফিরে না পেলে গণতন্ত্র আবারও মুখ থুবড়ে পড়বে। রোববার ২৬ জানুয়ারি দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

আমীর খসরু বলেন, নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পথ খুঁজতে গেলে সন্দেহের উদ্রেক হবে, মুখ থুবড়ে পড়বে গণতন্ত্র। নির্বাচনের বাইরে দ্বিতীয় কোনো পথ বেছে নিতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে কেউ যদি দ্বিতীয় পথ অবলম্বন করে তবে কারও কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। বড় ভুল করবে তারা। জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তাই, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে জুলাই-আগস্টের সহস্রাধিক ছাত্র-জনতার রক্তের প্রতি বেইমানি করা হবে বলে মনে করেন আমীর খসরু। সেই সঙ্গে যেসব সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যমত তৈরি হবে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বাকি সব সংস্কারের বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট নিতে হবে। সেজন্য নির্বাচনই একমাত্র পথ। কোনো গোষ্ঠী যদি মনে করে তাদের সিদ্ধান্তেই সংস্কার হবে, তাহলে সেটি ভুল হবে।

আমীর খসরু বলেন, দেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে বিদায় করেছে তারা। সুতরাং এই দেশের জনগনই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ কিভাবে পরিচালিত চলবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব সংসদ গঠন করতে হবে। এর ব্যতিক্রম কিছু করার সুযোগ নেই। কেউ যদি মনে করে শেখ হাসিনা যেভাবে জনগণের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল, শেখ মুজিব বাকশালের মাধ্যমে যেভাবে জনগণের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল তাহলে তার বিরুদ্ধে পুরো দেশের মানুষ দাঁড়িয়ে যাবে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিলো, একটি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল সংসদের মাধ্যমে জনগণ তার মালিকানা ফিরিয়ে পাবে।  

৭ বছর আগে বিএনপি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছেন। সেখানে দুই বারের অধিক কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, এগুলো ছয় বছর আগে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন। হাসিনা পরবর্তী যে বাংলাদেশ হবে এটাকে মাথায় রেখে খালেদা জিয়া কথাগুলো বলেছে। এই সংস্কারগুলো দরকার হবে আগামীর বাংলাদেশে। আজকে তারা সেই প্রস্তাবগুলো বলতেছে।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আমরা দুই বছর আগেও যুগপৎ আন্দোলন দলগুলোকে নিয়ে ৩১ দফা সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছি। সুতরাং শেখ হাসিনা পতনের পর আগামী বাংলাদেশ কেমন হবে তার প্রস্তাব আমরা আগেই দিয়েছি। সেই কথাগুলো এখন আলোচনা চলছে, নতুন কোনো কিছু নেই। আগামী দিনে বিএনপি জাতীয় সরকারের গঠনের মাধ্যমে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে। বিএনপি সহ যুগপৎ শরিকরা ৩১ দফা বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আগামী দিনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে পাশ করবে বিএনপি। আর কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মনে করে তারা যদি মনে করে তাদের কিছু প্রস্তাব আছে তাহলে তাদেরকে জনগণের কাছে যেতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের কি পরিবর্তন হবে, কি সংস্কার হবে, সেটা ভুল হবে। 

আমীর খসরু বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল কারণ ছিল গনতন্ত্র। যেটা একদলীয় বাকশালের মাধ্যমে কেড়ে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। আর বহুদলীয় গনতন্ত্রের মূলমন্ত্র ছিল বাংলাদেশের জনগণের মালিকানা তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। বাকশাল বিদায়ের মধ্যে দিয়েও সেই আন্দোলন-সংগ্রাম শেষ হয়নি, বরং অব্যাহত ছিল। পরবর্তীতে আরেক স্বৈরাচার এসে নির্বাচনকে কেড়ে নিয়ে জনগণের মালিকানা কেড়ে নিয়ে ছিল। তারপর এক এগারো, আরেক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একদলীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম। বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, স্বৈরাচার এরশাদের পতনের আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপোষহীন ছিলেন খালেদা জিয়া। তার হাত ধরে আবারও বহুদলীয় গনতন্ত্র ফিরে এসেছিল। তারপর থেকে নিজের জীবনের বিনিময়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন। জেলখানায়  ৬ বছর থাকলেও কোনো আপোষ করেননি তিনি শুধুমাত্র গণতন্ত্রের জন্য। সেই আন্দোলন কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। আজকে আবারও জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলতে হচ্ছে। 

ভিওডি বাংলা/ এমপি

 


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই
শপথ নিলেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম
শপথ নিলেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম