• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাধ্যতামূলক অবসরে ৩২ জেলা প্রশাসক আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা হবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা: প্রতিমন্ত্রী টুকু সৌদির তেল স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন হামলার দাবি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ উন্নয়ন-সুশাসনে সবাইকে পাশে চাইলেন সারিয়াকান্দির নবাগত ইউএনও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন মির্জা ফখরুল লুলাকে ‘চোর’ বললেন মিলেই, রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করল ব্রাজিল হাসপাতালের শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, সাময়িক বরখাস্ত হলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে শেষ ধাপে সরকার

হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ এ.এম.
শেয়ার করুন 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ভিওডি বাংলা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ভিওডি বাংলা

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে হেপাটাইটিসমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনগণমুখী করতে ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার বিস্তার এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’-এর মাধ্যমে হেপাটাইটিস সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, সামাজিক কুসংস্কার ও ভয় কাটিয়ে মানুষকে পরীক্ষা, প্রতিরোধ ও চিকিৎসার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। এসব দূর করতে হলে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি এবং স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করতে হবে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন। তবে সময়মতো টিকাদান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ অনেকাংশেই প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তার মতে, জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা এখন সময়ের অন্যতম বড় দাবি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের চিকিৎসা আরও উন্নত করতে বিশেষায়িত হাসপাতাল, আধুনিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম যুক্ত করার মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের ফলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রয়োজন ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং দেশের মানুষ নিজ দেশেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকার এ ধরনের রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ যাতে চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য সরকার স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামাজিক নিরাপত্তামূলক উদ্যোগও জোরদার করছে।

স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও রোগীকেন্দ্রিক করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সহায়তা প্রদান আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিসসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের চিকিৎসা ও ফলোআপ কার্যক্রমও আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’—এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য পূরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ আরও সফল হবে এবং ভবিষ্যতে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ভিওডি বাংলা/জা
 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস-সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০-১৫ দিন লাগবে: জ্বালানিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
কলকাতায় উপ-হাইকমিশনে প্রেস সচিব হলেন উম্মে মারুফা
ছবি: সংগৃহীত
একযোগে ৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি