ঈদ উপলক্ষে ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। প্রতি বছর ঈদের আগে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করেন। এই বিশাল যাত্রাপথকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ডিএমপি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
এছাড়া ১৬ মার্চ থেকে ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চলাচল সহজ করতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাজধানীর অন্যান্য যানবাহনকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যেসব সড়ক পরিহারের অনুরোধ করা হয়েছে সেগুলো হলো— ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক (কুড়িল থেকে আব্দুল্লাহপুর), ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড), ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক/মিরপুর রোড (আড়ং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার), ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক (ফুলবাড়িয়া থেকে তাঁতিবাজার হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ), ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক (গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ), মোহাম্মদপুর বসিলা ক্রসিং থেকে বসিলা ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক, আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ সড়ক এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক।
গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য নির্দেশনা
ডিএমপি জানিয়েছে, আন্তঃজেলা বাসগুলোকে অবশ্যই টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী নিয়ে সরাসরি গন্তব্যে রওনা দিতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই টার্মিনালের বাইরে সড়কে বাস দাঁড় করানো যাবে না। অনুমোদিত বাস কাউন্টার বা স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানো বা নামানো যাবে না। রাজধানীর প্রবেশ ও বাহিরমুখী সড়কে বাস পার্কিং নিষিদ্ধ থাকবে।
বিআরটিসির বাসগুলো সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকে বের হয়ে নির্ধারিত জেলার দিকে যাবে, কোনোভাবেই ঢাকার ভেতর দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস ছাড়তে হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা যাবে না।
এছাড়া যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা যাবে না এবং একই আসনের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। বাসের ছাদে যাত্রী বহন করা যাবে না।
চালকদের জন্য আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং বেপরোয়া বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক কিংবা সরু সেতুতে ওভারটেক করা যাবে না। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন, ঘুমঘুম ভাব বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানোও নিষিদ্ধ।
বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহন চালানো যাবে না। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং বাসে উচ্চস্বরে গান বাজানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
উল্টো পথে বাস চালানো যাবে না এবং চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করতে হবে। মালিকরা কোনো চালককে একটানা পাঁচ ঘণ্টা বা দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করতে পারবেন না। ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত, অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গতকারী বা জরাজীর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যাত্রী ও পথচারীদের জন্য নির্দেশনা
যাত্রীদের নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠতে বলা হয়েছে; সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে ওঠা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণের সময় নিজের মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখার পাশাপাশি বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনাল বা কাউন্টারে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে হবে। চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা কিংবা পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী হয়ে যাতায়াত না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দৌড়ে বা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার না হওয়া এবং সম্ভব হলে ফুটপাত ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







