দ্রব্যমূল্য নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার উত্তর সূরিয়ারপাড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মন্ত্রী উপকারভোগী নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগী পরিবারগুলো প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পাবে। কার্ডধারীরা বিকাশ, নগদ কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে দিরাই উপজেলার আকিল শাহ, রাধানগর ও উত্তর সূরিয়ারপাড় গ্রামে পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে বাছাই করা ৬৯৭টি পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় দেশের ১০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই কর্মসূচি চালু করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ছিল বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্বাচনী অঙ্গীকার। সরকার গঠনের ২১ দিনের মধ্যেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই কর্মসূচি চালু করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ়তার প্রমাণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় দীর্ঘদিন বিনিয়োগে স্থবিরতা ছিল। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান তৈরি হয় না, আর কর্মসংস্থান না হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে দারিদ্র্য বাড়ে। বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ-এর কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘদিন সাগরপথে সমস্যা থাকলে নৌপরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। তবে এই মুহূর্তে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই।
ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী, কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ও কামরুজ্জামান কামরুল এবং সমাজসেবার বিভাগীয় পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম।
এ সময় দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/এম আর সজিব/আ







