ভিকারুননিসা শিক্ষার্থীকে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

রাজধানীর উদ্দেশ্যে যাওয়া ফারহান-০৪ লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থী ১৭ বছর বয়সী ছিলেন এবং তিনি নোয়াখালীর হাতিয়া তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠেছিলেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে আমার বাবা হাতিয়া তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে আমার ১৭ বছর বয়সী বোনকে ফারহান-০৪ লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে ঢাকার উদ্দেশ্যে ওঠান। একই সময়ে লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার পথে লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) এবং মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। লঞ্চ ছাড়ার কিছু সময় পর তারা বোনের কেবিনে এসে দরজা নক করেন এবং জানান যে তারা আমার বাবাকে চেনে। এরপর তারা অনুরোধ করেন, মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য থাকা কিছু টাকা নিরাপত্তার কারণে বোনের কেবিনে রাখা হোক, যা বোন সরল বিশ্বাসে রাখেন।
আমার বোনের সঙ্গে কথাবার্তা বলার একপর্যায়ে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন আমার বোনকে বিভিন্ন ধরনের কু-প্রস্তাব দিলে আমার বোন রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা আমার বোনের গলা ও মুখ চেপে ধরে।
পরে তারা কৌশলে আমার বোনের কেবিনের মধ্যে প্রবেশ করে আমার বোনের বেডে বসে পড়ে। তখন মিঠু আমার বোনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। এ সময় মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন কেবিনের দরজা বন্ধ করে আমার বোনকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
এ সময় আমার বোন ডাক-চিৎকার করার চেষ্টা করলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন এ ঘটনা কাউকে জানাইলে আমার বোনকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে আমার বোন চিৎকার করার চেষ্টা করলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক আবার ধর্ষণ করে তারা। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদ। মঙ্গলবার তাদের কোর্টে হাজির করে তাদের নামে মামলা করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







