কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম

বাংলাদেশের স্পন্দিত হৃদপিণ্ড; যেখানে আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতি আর প্রশাসনের মহাপ্রাণ এসে মিশেছে এক মোহনায়। কোটি মানুষের স্বপ্ন আর সংগ্রামের এই চিরব্যস্ত মহানগরী আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। যানজটের স্থবিরতা, জলাবদ্ধতা কিংবা নাগরিক সেবার অপ্রাপ্তি—প্রতিটি চ্যালেঞ্জই এখন আমাদের অগ্রযাত্রার পথে বড় অন্তরায়। এই বিশৃঙ্খলাকে শৃঙ্খলায় রূপান্তর করতে আজ এমন এক দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজন, যার মেধায় থাকবে আধুনিকতার ছোঁয়া আর হৃদয়ে থাকবে নাগরিকের প্রতি নিখাদ দায়বদ্ধতা।
এই বাস্তবতার মধ্যেই দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাজধানীকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম। অনেকেই মনে করেন, তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন; বরং একজন কর্মমুখী সংগঠক, যিনি বিশ্বাস করেন—নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় কথায় নয়, কাজে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি রাজধানীর নাগরিক সমস্যাগুলোকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে তিনি নিয়মিতভাবে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। প্রতিটি বিভাগের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন এবং কোথাও গাফিলতি বা শৈথিল্য দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।
রাজধানীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ‘গ্রিন-ক্লিন ঢাকা’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশা নিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে মশার উপদ্রব কমাতে ক্রাশ প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে নগরবাসী স্বস্তিতে বসবাস করতে পারেন। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত এবং পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। তার নির্দেশনায় সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
এছাড়াও মশা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার করতে এক মাসের জন্য ১০টি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমকে পুরো নগরী ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দেবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার বিষয়টিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম। নাগরিকদের সমস্যার কথা সরাসরি শোনার জন্য তিনি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন—প্রতি শনিবার ডিএসসিসিতে ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’ পালন।
এই উদ্যোগের ফলে রাজধানীর সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রশাসকের সামনে এসে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। কেউ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করছেন, কেউ রাস্তার অবস্থা নিয়ে বলছেন, আবার কেউ মশার উপদ্রব বা ড্রেনেজ সমস্যার কথা তুলে ধরছেন। প্রশাসক মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি অভিযোগ শুনছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। অনেক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানও দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব সমস্যা কিছুটা সময়সাপেক্ষ, সেগুলোর জন্য বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ নির্দেশ করা হচ্ছে।
নগর ব্যবস্থাপনায় এই উদ্যোগকে একটি গণমুখী ও অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। কারণ এতে নাগরিকরা শুধু অভিযোগ জানানোর সুযোগই পাচ্ছেন না, বরং প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়ছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন আবদুস সালাম। বাংলাদেশ বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মিলিত আবাসভূমি—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি সব সম্প্রদায়ের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীর মহাখালীতে একটি নাটমন্দিরের শুভ উদ্বোধন করেছেন তিনি। এ উদ্যোগ শুধু একটি স্থাপনার উদ্বোধন নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রশাসনের ভেতরেও তিনি সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। নিয়মিত সভা, মাঠপর্যায়ে তদারকি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তিনি কাজের গতি বাড়িয়েছেন। তার স্পষ্ট নির্দেশনা—নগরবাসীর সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
নগরবাসীর অনেকেই মনে করছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যেভাবে দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্যে ধারাবাহিক উদ্যোগ নিচ্ছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। তার কর্মনিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং বাস্তবমুখী পরিকল্পনা রাজধানীর উন্নয়নে নতুন আস্থার জন্ম দিয়েছে।
একজন দায়িত্বশীল প্রশাসক হিসেবে তিনি বুঝতে পেরেছেন—রাজধানীর উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনমান, পরিবেশ এবং সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নও। তাই তিনি উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, এই ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং কর্মমুখী নেতৃত্ব অব্যাহত থাকলে রাজধানী ঢাকা খুব শিগগিরই আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর এবং বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে। আর সেই পরিবর্তনের পথচলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন একজন পরিশ্রমী, দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল প্রশাসক—মোঃ আবদুস সালাম; যিনি সত্যিই বিশ্বাস করেন, কথার চেয়ে কাজই মানুষের আস্থা অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।
আলোচনায় বক্তারা ফার্মেসি পেশার বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টে প্রফেশনাল মাস্টার্স ইন ফার্মেসি প্রোগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট তৈরিতে এ ধরনের উচ্চতর পেশাগত শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টে প্রফেশনাল মাস্টার্সের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এমএস







