• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বিদায় বেইলি রোড, আবেগঘন বার্তা শফিকুল আলমের

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৪ পি.এম.
শফিকুল আলম। ফাইল ছবি

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ বসবাসের স্মৃতি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন শফিকুল আলম।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বেইলি রোডের স্মৃতিচারণ করেন।

বার্তায় তিনি লেখেন, বিদায় বেইলি রোড। তুমি আমার জীবনের এক রোমাঞ্চকর যাত্রার সাক্ষী হয়ে আছো।

তিনি জানান, বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’ ভবনের পঞ্চম তলায় তিনি বসবাস করতেন। যদিও তখন সেখানে কোনো মন্ত্রী থাকতেন না; ওই ভবনে থাকতেন বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। চারপাশের পরিবেশ ছিল শান্ত ও স্থির।

তিনি বলেন, সেখানে সকাল শুরু হতো পাখির কিচিরমিচিরে। তার ফ্ল্যাট থেকে কয়েক কদম দূরেই ছিল ‘যমুনা’, যেখানে বহু গুরুত্বপূর্ণ ও নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে।

শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, রাজধানীর শাহীনবাগের নিজ বাসা ছেড়ে বেইলি রোডে ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ বসবাসের প্রধান কারণ ছিল ‘যমুনা’র কাছাকাছি থাকা। কারণ, সেখানে অবস্থান করতেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসের অধিকাংশ সময় সেখান থেকেই তিনি দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেছেন। অনেক সময় এমনও হয়েছে যে, রাতের খাবার ফেলে রেখে তাকে ‘যমুনা’য় ছুটে যেতে হয়েছে সংকট ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখার জন্য এবং সে বিষয়ে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

বার্তায় তিনি আরও লেখেন, তার বেইলি রোডের বাসা থেকে কয়েক গজ দূরেই ছিল পররাষ্ট্র সেবা একাডেমি। সেখানে তিনি প্রায় ৩০০টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংলাপেও অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, জায়গাটির শান্ত পরিবেশ অনেক সময়ই উত্তাল বিক্ষোভে ভেঙে গেছে। তখন মনে হয়েছে, যেন সবার জন্য এটাই শেষ। তবে কোনো এক সময় পরিস্থিতি বদলে যেত এবং বেইলি রোড আবার ফিরে পেত তার শান্ত সৌন্দর্য।

শফিকুল আলম জানান, গত তেরো মাসে তিনি রমনা পার্কে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেননি—এটাই তার একমাত্র আক্ষেপ। অন্যদের মতো সকালবেলার হাঁটাহাঁটি বা আড্ডায় যোগ দেওয়ার সুযোগও হয়নি। তবে তিনি ও তার স্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই রাস্তার ধারে বসা অস্থায়ী বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেন। যদিও সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ সেই দোকানগুলো সরিয়ে দিয়েছে।

সবশেষে তিনি লেখেন, বিদায় বেইলি রোড। তুমি বাইরে থেকে শান্ত ছিলে, কিন্তু ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষী হয়ে ছিলে।

ভিওডি বাংলা/আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
‘১৭ বছরে ১৭ দিনও বাবাকে পাইনি’: সোহেলের মেয়ের আবেগঘন পোস্ট
‘১৭ বছরে ১৭ দিনও বাবাকে পাইনি’: সোহেলের মেয়ের আবেগঘন পোস্ট
মধ্যরাতে কর্মসূচি ঘোষণা করলেন সাদিক কায়েম
মধ্যরাতে কর্মসূচি ঘোষণা করলেন সাদিক কায়েম
ভোররাতে আমির হামজার বিনীত অনুরোধ
ভোররাতে আমির হামজার বিনীত অনুরোধ