জাহাঙ্গীরনগরে বর্ণিল আয়োজনে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ‘বাহা বঙ্গা’ উৎসব

সাঁওতাল নারীরা ফুল মাথায় গুঁজে বসন্তকে বরণ করছেন ‘বাহা বঙ্গা’ উৎসবে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শালবনে উৎসবমুখর পরিবেশে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শালবনে প্রাকৃতিক পরিবেশে উৎসবটি শুরু হয়। সাঁওতাল নারীরা নতুন ফুল মাথায় গুঁজে বসন্তকে স্বাগত জানান এবং মাদলের ছন্দে নাচ-গান করে পুরো এলাকা মুখরিত করে তুলেন।
উৎসবটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল। বাহা বঙ্গা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নিরালা মারডি বলেন, “আমাদের নিজস্ব রীতিনীতি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতামূলক পরিবেশে আমরা আমাদের প্রায় হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে পারি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আরফি’র সদস্য সোমা ডুমুরি জানান, “বাহা দেবতার পূজার মাধ্যমে সাঁওতালরা ঋতুর প্রথম ফুলকে বরণ করে। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরার চেষ্টা করি।”
ডাকসুর কার্যকরী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। বাহা বঙ্গার উদযাপন দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।”
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী নিহা বলেন, “ক্যাম্পাসে এত সুন্দর একটি উৎসব হয়, তা আগে জানতাম না। সাঁওতালদের পূজা ও ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ হলো।”
উৎসবের মাধ্যমে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, দেশের মানুষের মধ্যে আদিবাসী সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, ফুলের সাজ, নৃত্য ও সঙ্গীত মিলিত হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শালবনকে উৎসবমুখর করেছিল।
সাংস্কৃতিক চর্চার এই আয়োজন শিক্ষার্থী ও দর্শক উভয়ের কাছে এক মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে, যা বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভিওডি বাংলা/জা







