উখিয়ায় নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়ায় নিখোঁজ হওয়া এক স্কুলছাত্রকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে রেজুখাল থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে উখিয়ার রেজুরকুল এলাকার খাল থেকে ১৩ বছর বয়সী কৌশিক বড়ুয়া বাঁধনের মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা পতন বড়ুয়ার সন্তান ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে বাঁধনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ছেলে না পেয়ে তার বাবা উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাত ১০টার দিকে বাঁধনের এক বন্ধু পরিবারকে জানায়, সন্ধ্যার দিকে তারা রেজুখালের মোহনায় একটি বড়ই গাছ থেকে বড়ই খাচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা দীপক বড়ুয়া জানান, বন্ধুদের দাবি, কথিত ‘অদৃশ্য শক্তি’র ডাকে বাঁধন খালে পড়ে যায়। ভয় পেয়ে সে তখন বিষয়টি কাউকে জানাননি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতেই খালসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয়রা জড়ো হন। নিখোঁজ কিশোরকে খোঁজার পাশাপাশি পাশের একটি বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু ও স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনা ও ত্রিপিটক থেকে মন্ত্র পাঠ করেন।
আজ ভোরে খালের পানিতে বাঁধনের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক জানান, দুর্ঘটনাবশত বা অন্য কোনো কারণে বাঁধন খালে পড়ে মারা যেতে পারে। তবে ঘটনায় কুসংস্কার ছড়ানো হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এমন ঘটনাকে ‘ঢালি নেওয়া’ বলা হলেও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিষয়টি পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।
বাঁধনের বাবা পতন বড়ুয়া ও মা শিখা বড়ুয়া প্রথম সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিখা বড়ুয়া বলেন, “আমি কিছুই চাই না, আমার বাঁধনকে ছাড়া। আমার বাঁধনকে এনে দাও।”
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। কিশোরের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভিওডি বাংলা/জা







