জামায়াত-এনসিপি: সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণ করেছেন নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রীরা। এখন রাজনৈতিক দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত। এই প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে জামায়াত-এনসিপি জোটে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনে এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। তাদের আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবেন তারা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি এবং জোটগতভাবে ১৩টি আসন পেতে পারে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, নারী এমপি মনোনয়নে অঞ্চল, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীলতা বিবেচনা করা হবে। “যেসব অঞ্চলে জামায়াতের এমপি নেই, সেখান থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। আবার আগে যারা সংরক্ষিত নারী আসনে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদেরও প্রাধান্য দেওয়া হবে। এছাড়া আমাদের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থেকে ১১ জনকে বাছাই করা হবে।”
তারা আরও জানায়, ক্ষেত্রবিশেষে দলের বাইরে পেশাজীবী নারীরাও বিবেচনায় রাখা হবে। সম্প্রতি ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ৮৯ সদস্যের মধ্যে ২১ জন নারী রয়েছেন। মূলত এখান থেকেই ১১ জনকে মনোনীত করা হবে।
জামায়াতে ইসলামী’র নারী প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন—কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম, এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী।
এর পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন।
ডা. আমিনা বেগম জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী। আগে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমিরের স্ত্রী ডা. হাবিবা চৌধুরী-ও আলোচনায় রয়েছেন।
জোটগতভাবে মনোনয়ন পেলে আরও দুটি নারী আসন পেতে পারে জামায়াত। এই দুটি আসন এনসিপির নারী নেত্রীরা পাবেন। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মনিরা শারমীন ও যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু আলোচনায় রয়েছেন।
জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জানান, “আমরা এখনো সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের প্রক্রিয়া আরম্ভ করিনি। আমরা অতীতে যাদের মনোনয়ন দিয়েছি, তারা অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সেই দিকটিও আমরা বিবেচনা করব।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বের পরিধি অনেক। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে যোগ্য মানুষদের বাছাই করা হবে, যারা সংসদে ও সংসদের বাইরে দেশের মানুষ, বিশেষ করে নারী সমাজের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবে।”
জোবায়েরের মতে, জামায়াতের দলীয় নারী নেতৃত্বের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না—“আমাদের সেই চিন্তা আছে। বিভিন্ন পেশায় যেসব নারী জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।”
ভিওডি বাংলা/এমএস







