বিলুপ্তির পথে খেজুরের রস, হারিয়ে যাচ্ছে শীতের ঐতিহ্য

শীতের ভোর, কুয়াশা ভেজা মাঠ আর টাটকা খেজুরের রস—গ্রামবাংলার চিরচেনা এই দৃশ্য এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। সময়ের পরিবর্তন, নগরায়ন এবং পেশাগত সংকটের কারণে খেজুরের রস আজ বিলুপ্তির পথে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে একসময় প্রচুর খেজুর গাছ দেখা গেলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কৃষিজমি আবাসন ও শিল্পকারখানায় রূপান্তর, ইটভাটার জন্য গাছ কাটা এবং পরিকল্পিতভাবে গাছ রোপণের অভাব—এসব কারণে খেজুর গাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ একটি দক্ষতাভিত্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। গাছিরা রাতের অন্ধকারে গাছে উঠে হাঁড়ি বেঁধে আসেন, ভোরে সংগ্রহ করেন রস। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ঝুঁকি বেশি, আয় অনিশ্চিত—ফলে অনেকেই অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। এতে করে অভিজ্ঞ গাছির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
বিশুদ্ধ খেজুরের রস পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও বর্তমানে বাজারে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত নষ্ট হওয়া ঠেকাতে কেউ কেউ রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ফলে অনেক ক্রেতা এখন রস কেনায় সতর্ক হয়ে উঠেছেন।
সংস্কৃতি গবেষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেজুর গাছ রোপণ ও সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি। গাছিদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান এবং আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি চালু করলে এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ালে বিশুদ্ধ রসের বাজারও সম্প্রসারিত হতে পারে।
গ্রামবাংলার শীতকালীন সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ খেজুরের রস। যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এই স্বাদ ও ঐতিহ্য কেবল গল্পেই শুনবে।
ভিওডি বাংলা/ইমন মিয়া/এমএস







