মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি: এম এ মালিক

সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় শহীদ আব্দুল মুকতাদির মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক (এম এ মালিক)। তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায়।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এম এ মালিক বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির বিরল যেখানে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে। বাঙালি জাতি সেই অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।” তিনি আরও স্মরণ করান, ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্রজনতা রাজপথে নেমে প্রাণ বিসর্জন দেয়। সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
এম এ মালিক ভাষা আন্দোলনকে জাতীয় চেতনার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই চেতনা থেকেই স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের শক্ত ভিত গড়ে উঠেছে। আমাদের সকলকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশ গঠনে কাজ করতে হবে।” তিনি উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগ কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। এছাড়াও শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও সম্মান নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনা সভার শুরুতে ভাষাশহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এম এ মালিক আশা প্রকাশ করেন, দেশের নতুন প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম অনিক চৌধুরী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাউদ্দিন মিয়া, কৃষি কর্মকর্তা গৌতম পাল, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদিপ্তা রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল মিয়া, দাউদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম খলিল ও সৌদি আরব বিএনপি প্রাদেশিক শাখার সভাপতি জাকারিয়া আরেফিন ফয়সলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা একমত হন যে, ভাষা আন্দোলন শুধুমাত্র ইতিহাস নয়, এটি জাতীয় চেতনার শক্ত ভিত্তি। আগামী প্রজন্মের মধ্যে এই চেতনা প্রবাহিত করা দেশের উন্নয়ন ও স্বাধীনতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







