চলতি বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ:
বিশ্বে বলয়াকার ‘রিং অব ফায়ার’ দৃশ্য

চলতি বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ আজ (মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত এই বলয়াকার সূর্যগ্রহণ বিশ্বজুড়ে আকাশপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী সূর্যগ্রহণের সূচনা হবে সকাল ৭টা ১ মিনিটে এবং এর সর্বাধিক স্থায়িত্বকাল প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে রাত ৮টা ২৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।
আইএসপিআর-এর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবারকার বলয়াকার সূর্যগ্রহণ মূলত দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অংশে দৃশ্যমান হবে। বিশেষভাবে আর্জেন্টিনা, চিলি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, অ্যান্টার্কটিকায় চিলির ইয়েলচো গবেষণা ঘাঁটি থেকে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৩৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। অন্যদিকে মরিশাসের ভিংট-সিনক দ্বীপ থেকে এটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে শেষ হবে।
বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে অবস্থান করে, কিন্তু পৃথিবী থেকে দেখা যায় চাঁদের আপাত আকার সূর্যের তুলনায় সামান্য ছোট। ফলে সূর্যের চারপাশে আগুনের আভা বা “রিং অব ফায়ার” এর মতো আলোকচ্ছটা দৃশ্যমান হয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি আকাশপ্রেমীদের জন্য এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সরাসরি চোখে তাকানো বিপজ্জনক। তাই নিরাপদভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সোলার ফিল্টার বা গ্রহণ চশমা ব্যবহার করা জরুরি। এই পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে চোখে স্থায়ী ক্ষতি ঘটতে পারে।
বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই ঘটনাটি ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে বিশেষ আয়োজন করেছেন। আর্কটিক, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার নির্দিষ্ট অঞ্চলে দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্র থেকে লাইভ সম্প্রচারও করা হবে।
সুতরাং, যদিও বাংলাদেশ থেকে এই বলয়াকার সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব নয়, আকাশপ্রেমীরা অনলাইনে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে বা নিরাপদ সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই দুর্লভ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবে।
ভিওডি বাংলা/জা







