ইশরাককে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান পুরান ঢাকাবাসী

রাজধানীর পুরান ঢাকায় এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ঢাকা ৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরান ঢাকার উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা সমাধান এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় তাকে মন্ত্রিসভায় রাখতে দাবি তুলছেন।
স্থানীয়দের মতে, পুরান ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর একটি শক্ত রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই ঘাঁটির সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখা এবং রাজধানীতে দলটির জনসমর্থন আরও বিস্তৃত করতে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নেতৃত্বের প্রত্যাশা:
গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা–৬ আসন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি। অতীতে এখানে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। এখন সাধারণ মানুষ ইশরাক হোসেনের ওপর আস্থা রেখেছে। তাকে মন্ত্রী করা হলে এলাকার উন্নয়ন যেমন হবে, তেমনি দলও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, তরুণ নেতৃত্বকে দায়িত্ব দিলে রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরি হবে এবং তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়বে।
পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সমস্যায় ভুগছে এলাকা। সরু রাস্তা, তীব্র যানজট, জলাবদ্ধতা, অগ্নিনিরাপত্তা ঝুঁকি, অপরিকল্পিত ভবন, গ্যাস ও পানির সংকট—এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান চান তারা।
গেন্ডারিয়ার ব্যবসায়ী করিম মিয়া বলেন, আমাদের এলাকার উন্নয়ন অনেকটাই পিছিয়ে। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী থাকলে উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।
ওয়ারীর বাসিন্দা গৃহিণী নাসিমা বেগম বলেন, বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা, রাস্তার সমস্যা—এগুলো আমাদের নিত্যদিনের কষ্ট। এলাকার একজন প্রতিনিধি যদি মন্ত্রিসভায় থাকেন, তাহলে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করি।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা:
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পুরান ঢাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।
পাইকারি ব্যবসায়ী আশিকুল ইসলাম বলেন, পুরান ঢাকা বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র হলেও যানজট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উন্নত সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা হলে ব্যবসা বাড়বে। এজন্য ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাই।
সুত্রাপুরের দোকান মালিক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োজন। একজন মন্ত্রী থাকলে স্থানীয় সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব।
তরুণদের প্রত্যাশা ও নতুন রাজনীতির সূচনা:
পুরান ঢাকার তরুণদের মধ্যেও ইশরাক হোসেনকে নিয়ে প্রত্যাশা দেখা গেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, দেশের রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার। তরুণরা প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করতে পারে। ইশরাক হোসেন মন্ত্রী হলে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।
আরেক শিক্ষার্থী সাবিহা রহমান বলেন, আমরা চাই আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সড়ক ও ডিজিটাল সেবা। তরুণ নেতৃত্ব এসব বিষয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
নারী ভোটারদের প্রত্যাশা:
স্থানীয় নারী ভোটাররাও এলাকার নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
গেন্ডারিয়া বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, নারীদের নিরাপদ চলাচল, ভালো রাস্তা, স্বাস্থ্যসেবা—এসব বিষয়ে আরও কাজ প্রয়োজন। এলাকার প্রতিনিধি মন্ত্রী হলে এসব বিষয়ে দ্রুত নজর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সমস্যা দ্রুত সমাধান হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
শ্রমজীবী মানুষও উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রত্যাশা করেছেন।
রিকশাচালক আবদুল জলিল বলেন, রাস্তা ভালো হলে যানজট কমবে, আমাদের আয়ও বাড়বে। এলাকার উন্নয়নের জন্য শক্ত নেতৃত্ব দরকার।
এক পরিবহন শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, যানজট কমানো ও সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন সবচেয়ে জরুরি। এজন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত দরকার।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনলে দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।
স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, মন্ত্রিসভায় তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বে নতুন গতি আসবে। এতে দল ও দেশের উন্নয়ন—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভায় রাখলে ভালো হবে।
তাদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে নির্বাচিত একজন তরুণ নেতাকে দায়িত্ব দিলে তা রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও আধুনিক নগর উন্নয়ন:
পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের আরেকটি বড় দাবি—ঐতিহ্য রক্ষা করে আধুনিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তারা।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী রেজাউল করিম বলেন, পুরান ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে, আবার আধুনিক সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা দরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনের প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে। এতে রাজধানীর উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসার পাশাপাশি সাংগঠনিক রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুরান ঢাকা:
পুরান ঢাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং তরুণ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থেকেই ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান অনেক বাসিন্দা। তবে তাদের এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করছে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর।
তবে স্থানীয় পর্যায়ে তাকে ঘিরে আশাবাদ ও রাজনৈতিক আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে—এমনটাই বলছেন পুরান ঢাকার বাসিন্দারা।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/এমএস







