ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল
| প্রাপ্ত আসন | ২১৩ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৭০ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৬ |
| প্রতীক |
|
রয়টার্সের প্রতিবেদন: নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে তারেক রহমান

প্রায় দুই দশক রাজনৈতিক নির্বাসনের পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় অর্জন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগোচ্ছেন। একসময় যাঁর ওপর কঠোর দমন-পীড়ন নেমেছিল, সেই নেতা এখন দেশের শীর্ষ পদে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে।
২০০৮ সালে সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেফতার ও কারাবন্দি থাকার পর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন তারেক রহমান। এরপর চিকিৎসার প্রয়োজন দেখিয়ে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরেন।
ফেরার দিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতি, ঢাকায় বিজয়ী প্রত্যাবর্তনের আবেগ—সব মিলিয়ে নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতায় এত দ্রুত সময় কেটে যায় যে, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার সময়ও পাননি তিনি। গত শনিবার রয়টার্সকে তারেক রহমান বলেন, “যেদিন থেকে দেশে নেমেছি, সময় কীভাবে কাটছে বুঝতেই পারছি না।”
তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বংশপরম্পরার একটি প্রতীকী নাম। তার মা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের বিএনপির নেত্রী, যিনি গত ৩০ ডিসেম্বর দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেন। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তারেক রহমান মাকে হারান।
তার বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ১৯৭৭-১৯৮১ মেয়াদে রাষ্ট্রপতি। ১৯৮১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে তার মৃত্যু দেশকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। তিন বছর পর খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন পরিচালনা করেন।
ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি ২০০টির বেশি আসন অর্জন করেছে, যা দলটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জয়। ২০০১ সালে তারা ১৯৩টি আসন পেয়েছিল।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১১ দলীয় জোট থেকে নির্ধারিত ৩০ আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টি আসন পায়। যদিও রাস্তায় বিপুল সমর্থক উপস্থিতি ছিল, ভোটে তা অনুপাতে রূপান্তরিত হয়নি। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপও এ ইঙ্গিত দিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি অনেক তরুণ সমর্থকের কাছে দলের আদর্শবিরোধী হিসেবে ধরা পড়ে।
গণভোটে জয়ের ইঙ্গিত
জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একসাথে সাংবিধানিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বিভিন্ন জরিপ ও স্থানীয় টিভি সূত্রে জানা যায়, হ্যাঁ ভোট ২০ লাখের বেশি এবং না ভোট ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি।
গণভোটে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো ছিল—নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ, নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দৃঢ় করা এবং প্রধানমন্ত্রীদের দুই মেয়াদের মধ্যে ১০ বছরের সীমা প্রবর্তন।
বিএনপির নীরব উদযাপন
নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরও বিএনপি কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা আয়োজনের নির্দেশ দেয়নি। দলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয় সত্ত্বেও কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে না। বরং দেশের কল্যাণে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।”
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
তারেক রহমান এখনো নিজেকে ‘রাজনৈতিক বংশধর’ হিসেবে নয়, বরং ‘গণতন্ত্র পুনর্গঠনের নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নতি কেবল গণতন্ত্র চর্চার মধ্য দিয়ে সম্ভব। পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিন্যাস, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দারিদ্র্যসীমার নিচের পরিবারের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে তিনি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছেন।
এদিকে তারেক রহমানের আকস্মিক উত্থান নতুন রাজনৈতিক প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। তরুণ নেতৃত্বের পরিবর্তনের ঢেউ ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়নি। দুই দলের আধিপত্যের পরিচিত কাঠামোয় বিএনপির এই বিজয় অনেকের কাছে ‘প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







