অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা ইইউ পর্যবেক্ষক দলের

বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস। তিনি বলেছেন, সামগ্রিকভাবে দেশের নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক এবং এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের চলমান কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনকে ঘিরে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন ইভার্স ইজাবস।
প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার প্রত্যাশা করছে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহিতা এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার মতো অভিন্ন নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশে ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে পুরো প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করা।
বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ইভার্স ইজাবস বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। কিছু কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে মিশনের ধারণা। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষকদের কাজ পরিচালনার জন্য এখন পর্যন্ত সহায়ক রয়েছে।
নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক একটি বিষয়। একটি নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক করতে হলে সমাজের সব স্তরের মানুষ—বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি জানান, এসব বিষয় ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের বিশেষ নজরে রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে আরেক প্রশ্নের জবাবে ইভার্স ইজাবস বলেন, ইইউর দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে কাজ শুরু করেছেন। তারা প্রার্থী, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশকে ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। যদিও নির্বাচনকে ঘিরে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে, তবুও সামগ্রিক প্রত্যাশা ও পরিবেশ আশাব্যঞ্জক।
প্রাক-নির্বাচনী প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা এবং গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইভার্স ইজাবস বলেন, এসব বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তিনি জানান, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। ওই প্রতিবেদনে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও তথ্য তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজ হলো নিরপেক্ষ থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত না হওয়া। নির্বাচন শেষে প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রচারণা পরিবেশ, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব গণতন্ত্রের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের “চোখ ও কান” হিসেবে কাজ করবেন। তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে।
সবশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে আগ্রহী এবং সেই লক্ষ্যেই তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ভিওডি বাংলা/জা







