তারেক রহমান:
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিডিআর নাম পুনর্বহাল করা হবে

বিএনপি ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এর নাম এবং ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পিলখানায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন। তারেক রহমান বলেন, “২০০৯ সালে পিলখানায় যে সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল, তার পর ফ্যাসিস্ট অপশক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করেছিল। এমনকি তাদের ইউনিফর্ম পর্যন্ত বদলে দেওয়া হয়েছিল। জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠিত হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই বিডিআরের নাম এবং ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হোক।”
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে, তার জন্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবসকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ বা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, “আপনাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আমি এবং আমার স্ত্রী কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। বরাবরই সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীকে আমরা একটি বৃহত্তর পরিবার মনে করি। কারণ, আমার পরিবারই মূলত সেনানিবাসে বেড়ে ওঠা। ছোট বয়সে বাবাকে হারালেও মা মরহুমা খালেদা জিয়াও সেনাবাহিনীর প্রতি এক ধরনের বিশ্বাস ও সম্মান পোষণ করতেন। তিনি সবসময় মনে করতেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “সেনাবাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। গৌরব অর্জনের বিষয়। সেনাবাহিনীর গৌরব রক্ষা করতে হবে তাদের নিজস্ব সম্মান এবং মর্যাদার প্রতি সতর্ক ও সচেতন থাকা জরুরি। জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠিত হলে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। অতীতে বিএনপি এমন কখনো করেনি, বর্তমানেও করেন না, ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও করবেন না।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে। তবে সেনারা রাজনীতিতে বিলীন হয়ে গেলে পেশাদারিত্ব হারাতে পারে। তাই প্রতিটি কর্মকর্তা এবং সদস্যকে রাজনীতির সঙ্গে পেশাদারিত্ব মিশিয়ে চলার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর।
তারেক রহমান অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে সকল অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে করমর্দন ও কুশল বিনিময় করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠানে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর যে নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা। এছাড়া বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ও নিহত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ এর ছেলে রাকিন আহমেদ ভুঁইয়াও বক্তব্য দেন।
পরিশেষে তারেক রহমান এবং অন্যান্য অতিথিরা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন এবং তাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন।
তারেক রহমানের এ মন্তব্য ও পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একদিকে বিএনপির সেনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন প্রকাশ, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা







