তারেক রহমান:
বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ'

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠকালে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠকালে এই ঘোষণা দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইনসাফ-ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ।”
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, ‘গণতন্ত্রের মাতা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ যে সকল বিষয়ে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে দল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
চেয়ারম্যান বলেন, ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদ ও বিদেশি তাঁবেদারিত্বের কোনো পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না।”
তারেক রহমান সমাজের সব স্তরে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার গুরুত্বে জোর দেন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের প্রত্যেক স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি প্রকৃত ‘জনকল্যাণমূলক সরকার’ গঠন করা হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রক্তার্জিত সেই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র আবার রক্ষা ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।”
তিনি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে। মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের নিজ-নিজ এলাকায় তাদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে। গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যেসব গণতন্ত্রকামী ব্যক্তি পঙ্গু হয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন, তাদেরও স্বীকৃতি, সুচিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদান করা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে, যা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও শহীদ পরিবারদের কল্যাণে কাজ করবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দল দেশের সব নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করবে। ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে কাজ করবে দল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই ইশতেহার দলটির জন্য একটি স্পষ্ট নীতিগত মানচিত্র তুলে ধরেছে। রাষ্ট্র সংস্কার, মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে বিএনপি আগামী নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্য রাখছে।
ভিওডি বাংলা/জা







