পাংশায় মহাশ্মশানের কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর

রাজবাড়ীর পাংশায় একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের নাওড়া বনগ্রাম বারপল্লী মহাশ্মশানে ঘটেছে।
জানা যায়, সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি মহাশ্মশানের পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা কালিপদ বর্মনের স্ত্রী মমতা বর্মন (৬০) প্রতিমা দর্শন করতে এসে প্রথমে কালী প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন মন্দিরে উপস্থিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী মমতা বর্মন বলেন, আমি কয়েকদিন বাড়িতে ছিলাম না। মঙ্গলবার বিকেলে বাড়িতে এসে মাকে দর্শনের জন্য মন্দিরে যাই। মাকে প্রণাম করার সময় দেখতে পাই মায়ের মুখ ভাঙা। যারা এ কাজ করেছে আমি তাদের বিচার চাই।
বারপল্লী মহাশ্মশানের কোষাধ্যক্ষ বীরকান্ত মন্ডল বলেন, মন্দিরের চারপাশ পাকা প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। প্রাচীরের চারটি গেট সবসময় তালাবদ্ধ থাকে। মন্দিরটিও পাকা ছাদযুক্ত ও বাইরে লোহার গ্রীলে তালাবদ্ধ থাকে। কে বা কাহারা ভিতরে প্রবেশ করে কালী মা, শিব, ডাকিনি-যোগিনী ও সর্পের মুখ ভাঙচুর করেছে। আমাদের ধারণা যেহেতু মন্দির তালাবদ্ধ ছিলো সেহেতু গ্রীলের ভিতর দিয়ে লাঠি বা বাঁশ দুয়ে প্রতিমার মুখমন্ডল ভেঙেছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি। প্রশাসন আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং ভাঙা প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে নতুন প্রতিমা গড়তে বলেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, ‘মাকে আঘাত করলে সন্তানের যেমন লাগে, কালী মায়ের প্রতিমা ভাঙায় আমাদের ঠিক তেমন কষ্টই লেগেছে। আমরা কোন ধর্মকেই অবমাননা করি না। তাহলে আমাদের মায়ের প্রতিমা কেন ভাঙচুর করা হবে? এ ধরনের কাজ যারা করেছে তাদের বিচার চাই।’
খবর পেয়ে বুধবার রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকার এবং পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, ‘এখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং নিয়মিত এখানকার অধিবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সবাই নির্বাচনমুখী, নির্বাচনের বিষয় নিয়ে সবাই চিন্তিত। এরই মধ্যে খারাপ কেউ এ কাজ করতে পারে। আশা করছি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুব দ্রুতই আইনের আওতায় আনতে পারব।’
প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। তারা এ ঘটনায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেই সাথে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলচেন।
ভিওডি বাংলা/ এস কে পাল সমীর/ আ







