• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

হাবিবুর রশিদ হাবিব:

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বিঘ্ন প্রচারের সহযোগিতা করা আমার দায়িত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৫ পি.এম.
ঢাকা-৯ আসনে নিজ বাড়িতে এক মতবিনিময় সভাই বক্তব্য দেন হাবিব-ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় থাকলেও পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করতে পারেন, সে দায়িত্ব তার বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৯ আসনে নিজ বাড়িতে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।  

হাবিব বলেন, আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেছেন আপনার সঙ্গে তো কয়েকজন প্রার্থী আছেন, তাদের বিষয়ে আপনার মতামত কী? আমি বলেছি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করতে পারেন, সে দায়িত্ব আমার। 

অনেকেই একজন প্রার্থী সম্পর্কে  জিজ্ঞাসা করলে আমি বলেছি নির্বাচনে তিনি যেন স্বাচ্ছন্দ্যভাবে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করতে পারেন এটা  আমার দায়িত্ব। আমি মনে করি, সেই দায়িত্ব আমি পালন করছি। তিনি যেখানেই প্রচার-প্রচারণা করছেন, আমি আমার নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি যেন  নির্বিঘ্নে তার কাজ করতে পারেন । ভাই হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, আর বোন হিসেবে তার দায়িত্ব এখন তার ওপর নির্ভরশীল।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমরা অনেক কষ্ট ভোগ করেছি। আমরা মজলুম হয়েছি, নির্যাতিত হয়েছি; কিন্তু তবুও আজ আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই আগামী দিনে আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। কারণ আমরা এ দেশের পতাকাকে ভালোবাসি, মানচিত্রকে ভালোবাসি।

আমরা আমাদের সহযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে চাই গণতন্ত্র, ন্যায় ও উন্নয়নের মাধ্যমে। আমরা চাই ঢাকা–৯ আসনকে একটি উন্নত ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে।

আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি তরুণ প্রজন্মকে শুধু স্বপ্ন দেখাতে চান না, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সবার আগে উপকৃত হবে আমরা, যারা ঢাকা–৯ আসনে বসবাস করি। কারণ এটা একটি নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এলাকা। আমাদের অনেক প্রয়োজন রয়েছে কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে যে প্রাপ্য অধিকার পাওয়ার কথা, তা আমরা এখনো পাচ্ছি না।

এই এলাকার মানুষের যে দুঃখ-কষ্ট, আমি নিজেও তার একজন অংশীদার। যে রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মানুষের কষ্ট হয়, আমি প্রতিদিন সেই রাস্তা দিয়েই হাঁটি। যে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ দুর্ভোগে পড়ে, সেই দুর্ভোগ আমিও ভোগ করি। আমি এই এলাকায় ৫৪ বছর ধরে বসবাস করছি। এই বাসাতেই আমার জন্ম, এই বাসাতেই আমি বড় হয়েছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমার মৃত্যু যেন এই বাসাতেই হয়। অতীতেও এখানে ছিলাম, বর্তমানে আছি ও ভবিষ্যতেও এখানেই থাকব।

এই এলাকার যারা উন্নয়ন চায়, যারা দেশের ভালো চায়, যারা ঢাকা–৯-এর উন্নয়ন চায় তারা সবাই আমার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এটি সবার অধিকার।

আপনারা যারা কাজ করছেন, আপনারা হাবিবুর রশিদ হাবিব ও ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করছেন বলে জানান তিনি। আমরা একই মিছিলের মানুষ, একই প্রতীকের সহযোদ্ধা। আমি আপনাদেরই একজন। যেখানে হাবিব থাকবে না, সেখানে আপনারাই হাবিব। আপনারাই আমার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাই আগামী দিনে মানুষের সঙ্গে কথা বলা, মানুষের দাবি তুলে ধরা এই দায়িত্ব আপনাদেরই পালন করতে হবে। নিজেদের দাবির পাশাপাশি অন্যের দাবিও বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব।

আমরা চাই আমাদের এলাকা সমৃদ্ধ হোক। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হোক। এখানে গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন দরকার, চিকিৎসাসেবার ঘাটতি আছে। ইনডোর ও আউটডোর স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। আমাদের একটি বিশ্ববিদ্যালয় নেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দরকার। আমরা আমাদের সমাজকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে চাই।

আমি দায়িত্ব নিয়ে একটি কথা বলতে চাই, বিশ্বাসের সঙ্গে বলছি আমি ৩৮ বছর ধরে রাজনীতি করছি। এই দীর্ঘ সময়ে যারা আমাকে চেনে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা ব্যক্তিগতভাবে তারা যদি বলেন আমি ভালো মানুষ, তাহলে আপনারা আমাকে ভোট দেবেন। আর যদি ভালো না বলেন, ভোট দেবেন না। এই কথা বলার সাহস আমার আছে, কারণ আপনাদের ওপর আমার আস্থা ও ভালোবাসা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে বাংলাদেশ গড়তে চাই তা শুধু আমাদের জন্য নয়। এই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের জন্য যারা আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিএনপি ভোট পেয়েছে ৫০ শতাংশ, জামায়াত ৩২ শতাংশ
বিএনপি ভোট পেয়েছে ৫০ শতাংশ, জামায়াত ৩২ শতাংশ
হাবিবকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী
হাবিবকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী
আলোচনায় আব্দুল মঈন খান
আলোচনায় আব্দুল মঈন খান