• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

‘আরোপিত কর ও ভ্যাট জনগণের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধি করবে’

   ১৮ জানুয়ারী ২০২৫, ০৩:৩৮ পি.এম.

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সম্প্রতি আমরা লক্ষ করছি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার চলমান অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা তথা উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই ১০০ টিরও বেশি পণ্যের ওপর ভ্যাট এবং সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেছে। কিছু পণ্যের কর অব্যাহতি তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পোশাক, ওষুধ এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা। এই সিদ্ধান্তটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে, বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে, চাপ বাড়াবে।

তিনি বলেন, সরকারের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে তারা চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতির প্রথম ধাপের ৪২ হাজার কোটি টাকা এবং পরবর্তী সম্ভাব্য ঘাটতি মেটাতে এবং Tax-GDP Ratio শর্ত পূরণ করে IMF এর ঋণের জন্য এই ভ্যাট বাড়িয়েছে, কারণ বর্তমান রাজস্ব দিয়ে সরকার বাজেটের খরচ মেটাতে পারছে না। একইভাবে, কিছুদিন পূর্বে সরকার ২২,৫০০ কোটি টাকা ছাপিয়েছে কিছু লুন্ঠিত ব্যাংকের তারল্য সংকট মোকাবেলায়।

শনিবার ১৮ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, আমরা বুঝতে পারি যে আওয়ামী ফ্যাসীবাদের পরবর্তী সময়ে অন্যান্য খাতের মতো আর্থিক খাতেও বিশৃঙ্খলা ও ভঙ্গুর অবস্থা পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো সৃষ্টি করেছে। তথাপি, বিএনপি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ জনগণের জীবনের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছর দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে কার্যত ধ্বংস করে ফেলেছে। ডিসেম্বর ২০২৪ অনুযায়ী, বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ২১ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছে, দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১%, অনেক ক্ষেত্রে এটি ২৫% এরও বেশি বেড়েছে। অথচ দক্ষিণ এশিয়া বিশেষত শ্রীলংকার মত দেশে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে করেছে। দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ২০ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে (চিত্র ০১) এবং ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকটের কারণে জনগণ তাদের কষ্টার্জিত আমানত ফেরত পাচ্ছে না। দেশের অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।

‘এমন বাস্তবতায় দেশের অর্থনীতিকে স্বাভাবিক ও গতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া অব্যশই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের শাসন ব্যবস্থায় যেই থাকুক না কেন, তাকেই সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে এবং যোগ্যতা ও সাহসের সাথে তা মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই চ্যালেঞ্জগুলোকে কার্যকর উপায়ে মোকাবেলা না করে এবং একটি অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ভিত্তি তৈরির দিকে মনোযোগ না দিয়ে চলতি অর্থ বছরের মাঝপথে হঠাৎ করে ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধি করল, যা সহজ কিন্তু জনগণের জন্য কল্যাণকর নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার গত নভেম্বর ২০২৪ মাসে আওয়ামী সরকারের লুণ্ঠিত কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকট কমাতে নতুন করে ২২,৫০০ কোটি টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছেড়েছে। যদিও এই সরকার তার মেয়াদের শুরুতে বলেছিল, দেশের অর্থনীতির কোন অবস্থাতেই টাকা ছাপানো হবে না। কিন্তু, আওয়ামী লীগ সরকারের ন্যায় টাকা ছাপানোর মতো অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পদক্ষেপটি গ্রহণ করল, যা দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং জনগণের নাভিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৪ নাগাদ দেশের জাতীয় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.৮৯% (চিত্র ০২) এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২.৯২%। তাছাড়া, গ্রামের (১২.৬৩%) তুলনায় শহরে (১৩.৫৬%) খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম এমনিতেই নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রান্তিক জনগণের পাশাপাশি খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যেভাবে জনজীবনের দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে সেভাবে তাদের আর্থিক আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

বর্তমান অর্থনীতির বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের এই নতুন করারোপের সিদ্ধান্তের ফলে:

(১) বর্তমানে প্রায় ১৩% ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পাবে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ফলে পরিবারের সঞ্চয় কমবে এবং ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হার বেড়ে যাবে।

(২) বর্তমানে নিম্নমুখী ৫.৮২% অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও কমবে। এর অর্থ হলো অর্থনীতির গতি স্থবির বা মন্থর হয়ে পড়েছে (ব্যবসা-বাণিজ্য) দ্রুত গতিতে না বাড়লে কারখানায় উৎপাদন না বাড়লে আয় বৃদ্ধি পাবেনা। কর্মসংস্থান আরও কমে যাবে। বেকারের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। এমনিতেই গত তিন বছর ধরে মানুষের প্রকৃত আয় কমছে। বিবিএস এর হিসেব অনুযায়ী গত ডিসেম্বরে মানুষের আয় বেড়েছে ৮%, কিন্তু জিনিসপত্রের দাম, অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় ১১%। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ১৪ আগস্ট আশ্বাস দিয়েছিলেন ৫/৬ মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সহনীয় হবে। কিন্তু বাস্তবে তা বরং বেড়েছে। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তার সুফল পেয়েছে। বাংলাদেশ যথাসময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রা ও রাজস্বনীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। গোষ্ঠীস্বার্থ উপেক্ষা করতে পারছে না সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতি কমাতে, অন্যদিকে সরকার কর বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে। এক মন্ত্রণালয় ডিম আমদানির অনুমতি দিচ্ছে, আরেক মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা তা আটকে দিচ্ছে। এই অদক্ষতা ও সমন্বয়হীনতার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। একদিকে বিশ্বব্যাংক যেমন প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কথা বলছে, তেমনই ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির ৫ টি বড় ঝুঁকির কথা বলেছে, যেমন মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক বন্যা/তাপপ্রবাহ, দূষণ সুযোগের অভাব এবং অর্থনৈতিক নিমুখিতা।  

(৩) বিশ্বব্যাংকের “Global Multidimensional Poverty Index (MPI) 2024" অনুসারে, বাংলাদেশের চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ। বর্তমানে আরোপিত নতুন করহার এই দরিদ্র মানুষদের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি করবে। বিবিএস-এর তথ্য মোতাবেক, দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। সারাদেশে এধরনের কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটির মতো। এছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারির পর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো মাসেই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি মজুরি বৃদ্ধির হার। প্রতি মাসে গড়ে যত মজুরি বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি ছিল তার চেয়ে বেশি। ফলে সাধারণ ও সীমিত আয়ের মানুষের বাজার থেকে নিত্যপণ্য ও সেবা কেনার সামর্থ্য কমেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান SANEM -এর দেশব্যাপী গৃহস্থালি জরিপ ২০২৩ -এর অন্য সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, সেপ্টেম্বর ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে ৭০ শতাংশ খানা বা পরিবার তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে। ২০২৪ সাল  শেষে দেশে সার্বিক  মূল্যস্ফীতি কিছুটা  কমলেও,  খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনো ১৩ ছুঁই ছুঁই!  অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি  চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রদত্ত তথ্য মোতাবেক বর্তমানে প্রায় ২ কোটি লোক রয়েছেন যারা দুদিন কাজ বা আয় করতে না পারলে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে বাধ্য হবেন। পরিণতিতে  জাতীয় দরিদ্রের হার পুনরায় ৪০ শতাংশে পৌঁছানোর আশংকা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র বিবেচনায় এটা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায়, নতুন করে ভ্যাট আরোপে স্বল্প আয়ের মানুষের দুর্দশা চরমভাবে বৃদ্ধির আশাংকা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ যে, ২০০১-২০০৭ সনে বিএনপি আমলে দারিদ্র্য লাঘবের হার ছিল বার্ষিক ১% (চিত্র ০৩), দারিদ্র্য লাঘবের যে হার গত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময় ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেতে থাকে। তাছাড়া, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের (১.১২%) তুলনায়  বিএনপি সরকারের শাসনামলে (১.৭৬%) দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী জনসংখ্যার বার্ষিক গড় হ্রাসের পরিমাণ বেশি ছিল (চিত্র ০৪)।
আমাদের মনে রাখতে হবে, গ্রামের দরিদ্র মানুষ না খেয়ে মরে না ঠিকই। কিন্তু তারা অর্ধাহারে দিন কাটায়। বর্তমানে খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে একজনের আয় দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই পিতা-মাতা কোনো উপায় না দেখে ছেলেমেয়েদের কাজে লাগিয়ে দিচ্ছেন, শুধু খেয়ে বেঁচে থাকার জন্যে। তাই, সরকারের ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব শিক্ষা ক্ষেত্রসহ সকল ক্ষেত্রে পড়তে বাধ্য এবং সার্বিকভাবে হতদরিদ্রের ওপরই পড়বে বেশি।

(৪) বর্তমান উচ্চ মূল্যের জ্বালানি খরচ আরও বাড়বে।

(৫) পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বিদ্যমান টার্নওভার ট্যাক্স থ্রেশহোল্ড ৫০ লাখ থেকে ৩০ লাখ এবং ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন থ্রেশহোল্ড ৩ কোটি থেকে ৫০ লাখে নির্ধারণ করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের ওপর কমপ্লায়েন্স প্রেসার বাড়াবে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি (Informal Economy) বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের জন্য কোনো অবস্থাতেই মঙ্গলজনক হবে না।

(৬) ব্যবসায়িক ব্যয় (Cost of Business) এবং শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং মোট উৎপাদন হ্রাস পাবে। এতে বেকারত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। এমনিতেই দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৬০ হাজার (প্রথম আলো, ৫ জানুয়ারি ২০২৫) । যদিও বেকারের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

(৭) ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা আরও হ্রাস পাবে।

(৮) নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনধারণ আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

(৯) ব্যবসায় বিনিয়োগ কমবে।

(১০) রপ্তানি প্রতিযোগিতার ক্ষমতা হ্রাস পাবে। সর্বোপরি, অর্থনীতি ও দেশের জনগণের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

‘সরকার নীতি সুদহার বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশে শুধু নীতি সুদহার বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একদিকে নীতি সুদহার বাড়ানো ও অন্যদিকে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। বলা বাহুল্য, এতে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ী মহলসহ আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট নানা মহলে তীব্র অসন্তোষ পরিলক্ষিত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট প্রমাণ করে যে সরকারের মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের চরম ঘাটতি রয়েছে। যদিও এনবিআরের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে দাবী করা হয় বর্ধিত করারোপ খাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেই, তথাপি দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদেরা এনবিআরের এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, ওষুধ, এলপিজি, মোবাইল সেবা, রেস্তোরাঁর খাবার, এবং পোশাক এর মতো নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্রে করারোপ বৃদ্ধি পেলে জনজীবনে ভোগান্তি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং মূল্যস্ফীতির উল্লম্ফন ঘটবে।

তিনি বলেন, এমনিতেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। এই ভঙ্গুর অবস্থায় সহজ রাস্তায় হেঁটে ভ্যাটের হার তথা কর বাড়িয়ে সরকারের খরচ মেটানোর চেষ্টা করলে তা দেশের জনগণের জন্য কোনভাবেই কল্যাণকর হবে না। আমাদের মনে রাখা উচিত যে এই দেশের জনগণ আওয়ামী দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে অকাতরে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছে। আমরা যেন ভুল নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে তাদেরকে আবার সেই দুঃশাসনের মাঝে ফিরিয়ে না নিয়ে যাই।

‘আমরা পূর্বেও বলেছি যে এই অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা করে যাব। তাই সরকারকে অনুরোধ করছি, আপনারা নীতিমালা প্রণয়নে জনগণের কথা সর্বপ্রথম বিবেচনায় নিন। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রাজস্ব সংগ্রহের জন্য অন্যান্য উপায় বিবেচনা করার এবং সে অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আপনারা পরোক্ষ কর না বাড়িয়ে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিন। কারণ পরোক্ষ কর সকল শ্রেণীর মানুষকে প্রায় সমানভাবে প্রভাবিত করে এবং নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর বোঝা বাড়ায়। প্রত্যক্ষ কর না বাড়িয়েও সরকারি খরচ কমিয়ে (Cost Cutting), এবং চলতি বাজেটের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা পুনঃবিন্যাস করেও চলমান আর্থিক সমস্যার সমাধান করা যায় ‘

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সর্বপ্রথম নজর দেওয়া উচিত খরচ কমানোর দিকে। আমরা মনে করি, সরকার তার উন্নয়ন বাজেট পুনর্বিবেচনা করে অপ্রয়োজনীয় ও আর্থিকভাবে অযৌক্তিক প্রকল্পগুলো বাদ দিলে প্রায় ২০ শতাংশ খরচ কমানো সম্ভব এবং এতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে সহায়ক হবে। পরিচালন ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকার যদি স্থানীয় সরকারের বাজেট এবং ভর্তুকি খাতে খরচ কমায় এবং সার্বিকভাবে পরিচালন ব্যয় ১০ শতাংশ কমাতে পারে, তাহলে ন্যূনতম ৫০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। তাছাড়া, সরকার কর্তৃক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া ঋণের বাজেট কমিয়ে সাময়িকভাবে ব্যয় সাশ্রয় করতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৫০,৮৭৫ কোটি টাকা ঋণ বাজেট করা হয়েছিল।

‘অতএব, সরকার খরচ কমানোর মাধ্যমে বাজেটের ন্যূনতম ১ লাখ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারে এবং ঘাটতি কমাতে পারে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সরকারের খরচ কমানোর এই উদ্যোগগুলি সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা কমাবে এবং অর্থনৈতিক চাপ লাঘব করবে। ফলে, জনগণ আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হবে এবং দেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটবে।’

অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতিগ্রস্ত মেগা প্রজেক্টের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ আপাতত বন্ধ রেখে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব। পতিত সরকার কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বর্তমান বাজেটে বরাদ্দ রেখেছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার পরিমাণ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নিজেদের স্বার্থে বছরের পর বছর বাড়ানো হয়েছে এগুলোর মেয়াদ। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বছরের পর বছর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে চলেছে হরিলুট। গত ১৪ বছরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে এমন লুটপাট হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ওপর। শ্বেতপত্র কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় উন্নয়ন বাজেটের ৪০ শতাংশই লুটপাট করা হয়েছে। অধিকন্তু, বাজেটের এমন অনেক খাত রয়েছে, যেমন অবকাঠামো খাতগুলোতে বরাদ্দকৃত বাজেটের অধিকাংশ অর্থই ব্যয় করা সম্ভব হয় না।  এসকল খাতে তাদের বরাদ্দকৃত অর্থ হ্রাস করে বাজেটের আকারকে আরও যৌক্তিকভাবে ছোট করে আনা সম্ভব।

এভাবে খরচ কমানোর পাশাপাশি সরকার এমন কিছু উৎস ও উপায় খুঁজে বের করতে পারে যা জনগণের, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর অর্থনৈতিক চাপ ফেলবে না।  উদাহরণস্বরূপ:

• প্রত্যক্ষ করের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্লাবে ইনকাম ট্যাক্সের হার বৃদ্ধি এবং সারচার্জ তথা ওয়েলথ ট্যাক্স বাড়ানোর মাধ্যমে কর আদায়ের ক্ষেত্রে আরও মনোযোগী হওয়া যেতে পারে। নন-ট্যাক্স এবং নন-রেভিনিউ খাতে আয় বৃদ্ধি করার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে বরং ভ্যাটের আওতা বাড়ানো যেতে পারে। [নন-ট্যাক্স যেমন নারকটিক্স ও লিকার ডিউটি, মটর ভেহিকেল ট্যাক্সসেস, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ইত্যাদি, এবং নন-রেভিন্যু খাত যেমন ডিভিডেন্ড এন্ড প্রফিটস, ইন্টারেস্ট, অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ ফিস, সার্ভিস ফিস, লীজেস, টোলস ইত্যাদি]।

• সরকার TIN নাম্বারধারীদের রিটার্ন সাবমিট এবং কর আদায় নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। এটি ইনকাম ট্যাক্সের আওতা বাড়াতে এবং কর সংগ্রহের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

• করযোগ্য আয়কে করের আওতায় নিয়ে আসা সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। এর মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা এবং রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হবে। এছাড়াও, এটি কর ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ এবং সুবিন্যস্ত করতে সহায়ক হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সরকারি আয় বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

• দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের সম্পদ, যা জব্দ করা হয়েছে বা একাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে, আইনানুগ পন্থায় সেই অর্থ ব্যবহার করা সরকারের জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। তাছাড়া, যে সকল সরকারি সেক্টরে অব্যবহৃত ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ রয়েছে তা চিহ্নিত করে ঐ সকল অলস অর্থের যথাযথ আইনানুগ ব্যবহার নিশ্চিত করা যেতে পারে।

• এ মুহূর্তে কালো টাকা উদ্ধারের জোরালো চেষ্টা করা, ব্যাংকের লুণ্ঠিত টাকা এবং নন-পারফরম্যান্স লোনের টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হবে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বর্তমান সরকারের শ্বেতপত্র অনুযায়ী, দুর্নীতি ও লুটপাটের প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা উদ্ধার করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা এখন অতীব জরুরি।

• ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিদায়ের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির কারণে সকলে আশা করছে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাহায্যে এগিয়ে আসবে। এই প্রেক্ষাপটে IMF থেকে ঋণ পেতে তাদের প্রদত্ত কঠিন শর্তগুলো শিথিল করার জন্য বলা যেতে পারে। কারণ বলা হচ্ছে, আইএমএফের শর্ত পূরণে নাকি কর চাপানো হয়েছে। তাছাড়া, দাতাদেশ ও দাতা সংস্থাগুলো কর্তৃক ঘোষিত অনুদান / ঋণের অর্থ ছাড় করানোর ক্ষেত্রেও সরকারকে আরো Pro-active হতে হবে।

• পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অন্যায়ভাবে কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল (Corporate Tax Rebate)। তারা অনেকেই এই অন্যায়ের পথ বেছে নিয়ে অনৈতিকভাবে কর ফাঁকি দিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অন্যায় ও আর্থিক অনিয়মের পথ বন্ধ করে প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে পারে। এর ফলে, একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিসর বৃদ্ধি পেত, ঠিক তেমনি শুল্ক করারোপের মতো জনবিধ্বংসী সিদ্ধান্ত এড়ানো যেত।

• বিগত সরকার বৃহৎ ঋণ খেলাপিদের নানা অনৈতিক সুযোগ সুবিধা দিয়ে খেলাপি ঋণের বোঝা বৃদ্ধি করেছে। মাত্র ২% নগদায়ন করে বৃহদাকার ঋণ পরিশোধের Reschedule করে তাদেরকে ঋণ খেলাপির তালিকা মুক্ত করে রেখেছে। সরকারের উচিত এ সকল ঋণ খেলাপি অলিগার্কদেরকে অপরিশোধিত ঋণ পরিশোধে এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে বাধ্য করা।

• বর্তমান ভ্যাট ও রাজস্ব প্রশাসনে পতিত সরকারের দোসররা এখনো বহাল তবিয়তে অবস্থান করছে। ফলে, পূর্বের মত এই খাতের চলমান অব্যবস্থাপনা, অস্বচ্ছতা ও দূর্নীতির কারণে রাজস্ব প্রশাসন তার কাক্সিক্ষত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত ছিল রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নজিরবিহীন দূর্নীতি প্রতিরোধ করে সরকারের বার্ষিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। জনগণের কাছ থেকে সহজ পন্থায় পরোক্ষ কর আদায় করে রাজস্ব বৃদ্ধির এনবিআরের অযৌক্তিক পরামর্শ জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

• এছাড়া কর ফাঁকি রোধ করে এবং কর প্রশাসনের উন্নতি করেও রাজস্ব আয় বাড়ানো যায়। পরিসংখ্যান বলছে,  বিভিন্ন খাতে কর ফাঁকির কারণে বছরে সরকারের প্রায় ৫৬ হাজার কোটি থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি পর্যন্ত রাজস্ব আয় কম হয়। নানা রকমের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কর ফাঁকি রোধ করা যায়। মোটকথা, করব্যবস্থানায় দুর্নীতি-হয়রানি কমাতে এনবিআরের নিরীক্ষায় অটোমেশন নিশ্চিত করতে হবে।

• এনবিআর-এর বর্তমান কাঠামো অক্ষুন্ন রেখে সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব নয়, এবং গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী লুটেরা গোষ্ঠী ও তাদের দোসর অলিগার্করা জনগণের সম্পদ লুটের অংশ হিসেবে ধনিক শ্রেণীর ওপর আয়করের তুলনায় সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ কর বেশি বসিয়ে রাজস্ব আহরণ করেছে। ছাগল-কান্ডের দুর্নীতিবাজ মতিউররা এ কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দোসর হিসেবে সহযোগী ভূমিকা রেখেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর পরিণতিতে, সমাজে  চরম অর্থনৈতিক  বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

• অর্থনীতির অন্যতম মূল উৎস কৃষির উপর আরও জোর দিতে হবে। প্রতিদিনকার কৃষিপণ্য উৎপাদনে তথা শাকসবজি উৎপাদনে বাড়ির আঙ্গিনা থেকে শুরু করে সকল পতিত জমিই ব্যবহার করতে হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যদিও বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় আওয়ামী সরকারের ২,৫০,০০০ কোটি টাকার বেশি বাজেট ঘাটতি মোকাবেলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সরকার একদিকে খরচ কমিয়ে এবং অন্যদিকে আয় বাড়িয়ে, বর্তমান বাজেট ঘাটতির কিছুটা হলেও সমাধান করতে পারে এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রসঙ্গত, বাজেট প্রস্তুতির সময়ই আমরা বলেছিলাম এটি একটি অবাস্তব বাজেট, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। সাধারণ জনগণের উপর কর এবং ভ্যাট তথা পরোক্ষ কর আরোপের মত এই অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহবান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

ভিওডি বাংলা/ এমপি


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎ
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎ
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই