পাকিস্তানে নিরাপত্তা অভিযানে ৫ সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলার ডোমেল তেহসিলে এক তীব্র নিরাপত্তা অভিযানে ‘কমান্ডার’সহ পাঁচজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে এই অভিযানে তিনজন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
অভিযানটি ডোমেল তেহসিলের স্পেরকা ও কোটকা আকবর আলী খান এলাকায় পরিচালিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের অবস্থানে ২৫টিরও বেশি কোয়াডকপ্টার হামলা চালায় এবং পুরো সময়ে গুলি বিনিময় চলে। নিহত সন্ত্রাসী কমান্ডারকে জেওয়ারান ওরফে আল-বদরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি একাধিক সন্ত্রাসমূলক মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন।
অভিযানের সময় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে দুইজন নারী। স্থানীয়রা জানান, নিহতদের মধ্যে নঈমুল্লাহ, তার মা ও দাদি ছিলেন। আহতদের মধ্যে নঈমুল্লাহর ছেলে, স্ত্রী, বোন ও এক চাচাতো ভাই রয়েছেন, যারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খলিফা গুল নওয়াজ হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ নোমান জানান, আহত চারজনের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইজন শিশু রয়েছে।
অভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় পৌঁছে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে নির্দেশ দেন। অভিযান তত্ত্বাবধান করেন বান্নুর আরপিও সাজ্জাদ খান, ডিপিও ইয়াসির আফ্রিদি এবং ১১৬ ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার উমাইর নিয়াজি। তারা মাঠে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সপ্তাহের শুরুতে ডোমেলে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়। এছাড়া ১৩ জানুয়ারি বান্নু জেলার গুলবাদিন লান্ডি ডাক এলাকায় সশস্ত্র হামলায় একটি শান্তি কমিটির চার সদস্য নিহত হয়েছিল।
এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে এবং পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের ধরার চেষ্টা চলছে।
পাকিস্তানিরা এ ধরনের অভিযানের সময় বেসামরিক ক্ষতির কারণে উদ্বিগ্ন। নিরাপত্তা বাহিনী বলেছে, সন্ত্রাসবাদ দমনই মূল লক্ষ্য, কিন্তু এ সময় সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ থাকে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই অভিযান পাকিস্তানে চলমান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারি প্রচেষ্টার অংশ, যা বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সন্ত্রাসী কার্যক্রম কমানোর জন্য পরিচালিত হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







