বিইউপি-মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে চুক্তি সই

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এমএনইউ)-এর মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং মালদ্বীপের মালে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা অংশীদারিত্বের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমএনইউ-এর চ্যান্সেলর ড. মাহামুদ শুগী, উপাচার্য ড. আইশাথ শেহনাজ আদাম, মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম, বিইউপি-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শফিউল আলম এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান তালুকদার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সূচনা করা হয়। এরপর হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এই সমঝোতা স্মারক কেবল আনুষ্ঠানিক চুক্তি নয়, বরং এটি জ্ঞান বিনিময়, মানুষে-মানুষে সংযোগ, এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতার একটি কার্যকর কাঠামো। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষমতায়ন, অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব বিকাশ, যৌথ গবেষণা উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলায় এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জনসম্পৃক্ত সম্পর্ক রয়েছে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মালদ্বীপ সরকারের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
বিইউপি-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শফিউল আলম মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিচ্ছিন্নভাবে কার্যকর হতে পারে না। আঞ্চলিক অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে এবং গবেষণা ও জ্ঞান উৎপাদনের ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আইশাথ শেহনাজ আদাম বলেন, এই সমঝোতা স্মারক দুই প্রতিষ্ঠানের অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতিফলন। চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, অতিথি অধ্যাপক নিয়োগ, যৌথ সেমিনার ও কর্মশালা, স্বল্পমেয়াদি কোর্স এবং যৌথ গবেষণা ও প্রকাশনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারক কেবল অ্যাকাডেমিক মানোন্নয়নে সীমাবদ্ধ নয়। এটি উভয় প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দক্ষ, জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরিতে অবদান রাখবে।
সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য বাংলাদেশের হাইকমিশনার এবং বিইউপি-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তাদের নেতৃত্ব ও উদ্যোগের মাধ্যমে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব গড়ে উঠবে।
উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়। এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যতমুখী শিক্ষাগত সহযোগিতার একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া, এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
ভিওডি বাংলা/জা







