• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

কিশোরদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৬ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে শুরু হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা, যেখানে মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে কিশোরদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক কিশোরী, যিনি আদালতে কেজিএম নামে পরিচিত। তার সঙ্গে মামলায় আছেন তার মা, ক্যারেন গ্লেন।

বাদীপক্ষের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তুলছে। ফিডের কোনো শেষ নেই, নোটিফিকেশন বারবার আসে, আর ভিডিও শেষ হবার আগেই নতুন ভিডিও চালু হয়। এই নকশা কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মামলায় বলা হয়েছে, কেজিএম হতাশা ও মানসিক চাপের শিকার হয়েছেন।

শুরুতে মামলায় টিকটক ও স্ন্যাপও ছিলেন। তবে বিচার শুরুর আগেই তারা আলাদা সমঝোতায় পৌঁছেছে। ফলে আদালতে এখন মুখোমুখি মেটা ও ইউটিউব। আইনজীবীদের বক্তব্য, সমস্যা শুধু কনটেন্ট নয়, প্ল্যাটফর্মের নকশাতেই। ব্যবহারকারী যাতে বারবার ফিরে আসে, সেজন্য সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ আনা হয়েছে যে, এসব প্ল্যাটফর্মে সাইবার বুলিং বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিশোরদের মধ্যে শরীর নিয়ে নেতিবাচক তুলনা তৈরি হচ্ছে এবং অচেনা প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই ধরনের সমস্যা কিশোরদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এই মামলা দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় দেড় হাজার অনুরূপ মামলা বিচারাধীন। কেজিএমের মামলার রায় ভবিষ্যতের অনেক মামলা ও প্রযুক্তি কোম্পানির নকশা ও নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিচারে কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা ও ইউটিউব। মেটা জানিয়েছে, তারা কিশোরদের জন্য আলাদা নিরাপদ অ্যাকাউন্ট চালু করেছে। এতে গোপনীয়তা সুরক্ষা বেশি এবং অভিভাবকরা নজরদারি করতে পারেন। ইউটিউব জানিয়েছে, সংবেদনশীল কনটেন্টে বিধিনিষেধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কম বয়সী ব্যবহারকারী শনাক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ সুবিধাও রয়েছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। কারণ মূল নকশা থেকেই ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। এটিই ঝুঁকির মূল উৎস।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলার রায় প্রযুক্তি খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে তাদের নকশা ও নীতি পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হতে পারে।

মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে দায়ের এই মামলা কিশোরদের নিরাপদ অনলাইন অভিজ্ঞতার ওপর নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্ব ও নীতির পুনর্মূল্যায়নও আনতে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফেব্রুয়ারিতে আসতে পারে গুগল পিক্সেল ১০এ
ফেব্রুয়ারিতে আসতে পারে গুগল পিক্সেল ১০এ
৫০ বছর পর নাসা চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে
৫০ বছর পর নাসা চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে
রাতে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখলে কি সত্যিই শরীর ভালো থাকে?
রাতে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখলে কি সত্যিই শরীর ভালো থাকে?