• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন: ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০১ পি.এম.
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি আলবার্ট গম্বিস-অ্যাম্বাসাডর মরিস ট্যানের সঙ্গে  ড. মুহাম্মদ ইউনূস-ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গম্বিস এবং সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মরিস ট্যানের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানান।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনের আগে বা পরে কোনো তারিখে ভোট হবে না। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ভোট গ্রহণ এবং ফল ঘোষণার পর ক্ষমতা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অটল থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও সতর্ক করেন, নির্বাচনের আগে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং এআই-জেনারেটেড তথ্য ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও শনাক্ত করতে সক্ষম।

ড. ইউনূস নিশ্চিত করেন, নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার ড. ইউনূস জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে ফোনালাপে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। ড. ইউনূস বলেন, দেশে নির্বাচনের সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, গুজব এবং অনুমানের বিস্তার বেড়েছে। এই ধরনের ভুয়া তথ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ফোনালাপে ভলকার তুর্ক বিষয়টি নজরে নেওয়ার কথা জানান এবং নিশ্চিত করেন যে, ভুয়া তথ্যের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

দুই পক্ষ আলোচনায় আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন।

ড. ইউনূস জানান, গুম সংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যেই জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের ঘটনার জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ড. ইউনূস আরও জানান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে এবং নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা যাওয়ার আগেই এটি করব। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যত স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং গুমসহ মানবাধিকার বিষয়ক অনুসন্ধান জোরদার হবে।”

ভলকার তুর্ক প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং আশ্বস্ত করেন, ভবিষ্যতেও জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

ড. ইউনূস বলেন, ভুয়া তথ্যের বিস্তার প্রতিরোধের জন্য জনগণ সচেতন ও প্রযুক্তি-সক্ষম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য শনাক্ত এবং তা প্রতিহত করার জন্য ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি সরকারি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এভাবেই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।

সর্বশেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “একদিন আগে বা পরে নির্বাচন হবে না। নির্ধারিত তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি, এবং জনগণও এই দিনটি মনে রাখবে। বিভ্রান্তিকর খবর থেকে সতর্ক থাকতে হবে।”

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ নির্বাচিত হলো জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি
বাংলাদেশ নির্বাচিত হলো জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিমানসুবিধা
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিমানসুবিধা
জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো “মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ”
মাহফুজ আলম: জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো “মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ”