• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা বই পেয়েছে: উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৪২ পি.এম.
বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই বিতরণ করছেন উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার -ছবি: সংগৃহীত

বছরের প্রথম দিনেই দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেন, “নতুন বছরের শুরুতেই আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দিতে পেরেছি। শুধু সময়মতো নয়, বইগুলোর মানও আগের তুলনায় ভালো হয়েছে, যা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।”

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ঢাকার আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা হলো একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। এই স্তরটি শক্ত না হলে পরবর্তী ধাপগুলোতে সফলতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, খুব শিগগিরই অভিভাবকদের জন্য একটি ‘অভিভাবক নির্দেশিকা’ প্রকাশ করা হবে, যেখানে শিশুদের মানসিক, শারীরিক ও নৈতিক বিকাশে করণীয় বিষয়গুলো সহজ ভাষায় ও চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শিশুরা কীভাবে শেখে, কীভাবে তারা বেড়ে ওঠে এবং কীভাবে তাদের সহায়তা করলে তারা ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে-এ বিষয়গুলো জানাটা খুব জরুরি। এই নির্দেশিকাটি অভিভাবকদের সেই জায়গায় সহায়তা করবে।”

প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় পাস করানো নয় উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো শিশুদের সাক্ষর করে তোলা-তাদের মাতৃভাষায় সাবলীলভাবে পড়তে ও বুঝতে শেখানো। প্রাথমিক স্তরে যদি শিশুরা ভালোভাবে পড়তে শেখে, তাহলে তারা পরবর্তী জীবনে পড়ার মাধ্যমে নিজেরাই শিখতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজ-সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই সম্মিলিত উদ্যোগই ভবিষ্যতের একটি দক্ষ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক প্রজন্ম গড়ে তুলবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আব্দুল লতিফ।

পরে উপদেষ্টা ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনসংলগ্ন নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন। সেখানে তিনি সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “সংবাদমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংখ্যালঘু নাগরিকদের ওপর হামলা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। এগুলো জাতির জন্য লজ্জাজনক।”

তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এসব ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা রাখছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।

উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চর্চা-এই তিনটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই একটি মানবিক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর এবং সেই লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। 

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নতুন নীতিমালা জারি
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নতুন নীতিমালা জারি
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত
কাল থেকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ
কাল থেকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ