• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়া

   ৭ জানুয়ারী ২০২৫, ০৬:১১ পি.এম.

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। গৃহবধু থেকে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আপোষহীন নেত্রী হয়েছেন। গুলশান-২ এর বাসা ফিরোজা থেকে রাত ৮টায় বিমানবন্দরের উদ্দেশে বের হবেন খালেদা জিয়া। তার বহনকারী গাড়িটি কাকলী গোলচত্বর হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে। পরে রাত ১০টায় লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদায়ী শুভেচ্ছা জানাতে বিকাল তিনটার পর থেকেই নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার সামনে জড়ো হচ্ছেন। এ সময় বিএনপি নেত্রীর বাসভবনের সামনের রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সেই সঙ্গে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের সংখ্যাও গত দিনের তুলনায় বেশি দেখা গেছে।

এদিকে খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রাযাকে ঘিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবির ভুঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে লন্ডনের উদ্দেশে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। আমরা মনে করি, এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরে আসবেন। তাদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। এখানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত এভসেক, এপিবিএনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীও মোতায়েন থাকবে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরের বাইরে ও ভেতরে তার (খালেদা জিয়া) যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থাই থাকবে। এ ছাড়া বিমানবন্দরে আগত অন্য যাত্রীদের যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা না হয়, সে ব্যাপারেও আমাদের সর্বোচ্চ পদক্ষেপ থাকবে।

চার দেয়ালের মাঝ থেকে বেরিয়ে সরাসরি বিএনপির নেতৃত্বে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির মত বড় দলের অভিযাত্রায় জেল, জুলুম, চিকিৎসাহীনতা সহ্য করে তিনি আপোষহীন নেত্রীর তকমা পেয়েছেন। আমরা জানবো বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন হয়ে ওঠার সেই পথ পরিক্রমা। 

১৯৮১ সালের ৩০ মে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হন এক সামরিক অভ্যুত্থানে। তার মৃত্যুতে দলটি নেতৃত্বশূন্য হয়। সেসময় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্টি হয় অনিশ্চয়তা। ঠিক এসময়ই বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব নেন। ১৯৮১ সাল থেকে একদিকে দল গোছানো অন্যদিকে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় দেন।  

সে সময়ের সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে যুগপথ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চার যে পথ সৃষ্টি করেছিলেন জিয়াউর রহমান বেগম খালেদা জিয়া সেই পথ ধরেই এগিয়ে নেন বিএনপিকে। তার নেতৃত্বের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় ১৯৯০ সালে পতন হয় স্বৈর শাসক এরশাদের।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিজয়ী হয় এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। রাজনীতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রশ্নে এক চুল ছাড় দেননি। কোনো ভয় বা লোভের কাছে মাথা নিচু করেননি। শত অত্যাচারেও তিনি মাতৃভূমি ছেড়ে যাননি। গণতন্ত্র ও ইসালামী মূল্যবোধের প্রশ্নেও বারবার তিনি নিজেকে দৃঢ় প্রমাণ করেছেন। 

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রশ্নে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি পেয়েছেন আপোষহীন তকমা। সাত বছর পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশ যাচ্ছেন। দেশে ফিরবেন সুস্থ হয়ে। আবার নেতৃত্ব দেবেন দেশের উন্নয়নে প্রত্যাশা নেতাকর্মী ও দেশের মানুষের।


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎ
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎ
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই