‘অন্তর্বর্তী সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘সাংঘর্ষিক’ নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
হাই কোর্টের রায়ে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসার পথ খুলেছে, তার সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা ‘সাংবিধানিকভাবে সাংঘর্ষিক হবে না’ বলেই মনে করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
এক যুগ আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংবিধানের যে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়েছিল, মঙ্গলবার তার কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় দেয়। এর ফলে দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের যে বিধান আওয়ামী লীগ করেছিল, তা বাতিল হয়ে তার জায়গায় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরার পথ খুলল।
রায়ের পর একজন সংবাদিক অ্যাটর্নি জেনারেলের কাজে জানতে চান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে সাংঘর্ষিক হবে কি না।
জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, হাই কোর্ট রায়ের মধ্য দিয়ে বলেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবেই বৈধ। আর সরকার পতনের পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতামত দিয়ে বলেছিল, সংসদ না থাকা অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টা ও কয়েকজন উপদেষ্টা নিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে।
উত্তরে তিনি বলেন, ‘গোটা প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলছে, এটা বৈধ এবং সাংবিধানিক সরকার হবে। ওইটার সাথে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো সাংঘর্ষিক কোনো পজিশন নাই।’
আদালতের এক রায়ের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বিলুপ্ত করা হয়। হাই কোর্ট মঙ্গলবার ওই সংশোধনীর আংশিক অবৈধ ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানকেই বৈধতা দিল।
আওয়ামী লীগ আমলের আরেক সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে বিচার ব্যবস্থা ‘ধ্বংসের’ জন্য দায়ী করে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘এইগুলোর সাজা হওয়া উচিৎ। এইগুলোর কারণেই আজকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত, বাংলাদেশে মানুষ হত্যা হয়েছে। বাংলাদেশে খুন হয়েছে। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, গুম হয়েছে। মৃত মানুষের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।’







