• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আদা-পেঁয়াজের ঝাঁঝ বাড়ছে বাজারে, নেই কোনো সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৬ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামে অস্বাভাবিক চড়াভাব চলছে। কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০ টাকায়। কিছু জায়গায় মানভেদে দাম ৮৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। দেশি রসুন কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও বিদেশি রসুনের দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ ও আমদানির জটিলতায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ক্রেতারা মনে করেন, কার্যকর বাজার নিয়ন্ত্রণের অভাবেই দাম এভাবে বেড়ে চলেছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়। আবার মান ও আকারভেদে ৮৫ টাকাও চাইছেন কিছু বিক্রেতা। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় পেঁয়াজও। ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিদিন বাজারে এলেই আগের দিনের চেয়ে দাম কিছুটা বেড়ে যাচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি সরবরাহ ও আমদানি ব্যয়ের চাপেই এই অস্থিরতা।

আবার রসুনের বাজারেও রয়েছে বড় ফারাক। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, কিন্তু বিদেশি রসুনের দাম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। আর দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় মিললেও চীনা আদা ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর বাজার কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। দেশি আলু পাওয়া যাচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। 

বিক্রেতাদের মতে, এ বছর দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হলেও কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দাম কমছে না। অন্যদিকে ভারতীয় পেঁয়াজের ক্ষেত্রে আমদানি নিয়মিত না হওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এতে দাম স্থিতিশীল না থেকে উলটো বেড়েই চলেছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে পেঁয়াজের বাজারে কেন দাম বাড়ছে-এ প্রশ্নের জবাবে তারা বলছেন, রসুন ও আদার বাজার অনেকটাই আমদানিনির্ভর। চীনা আদা বা ভারতীয় রসুন সীমান্তে আটকে গেলে বা পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে খুচরা দামে। তাদের ভাষ্য, পাইকারি বাজার থেকেই যখন বেশি দামে কিনতে হয়, তখন খুচরা বাজারে তা কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না।

নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের পেঁয়াজ-রসুন বিক্রেতা মজিবুর রহমান বলেন, দেশি পেঁয়াজ এ বছর প্রচুর উৎপাদন হয়েছে, কিন্তু কৃষকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে কম দামে ছাড়ছে না। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই দাম একটু বেশি থাকে। অন্যদিকে ভারত থেকে যে পেঁয়াজ আসে, সেটাও সব সময় ঠিকমতো আসে না। বন্দর দিয়ে আসা-যাওয়ায় জটিলতা তৈরি হলে সরবরাহে টান পড়ে, তখন বাজারে দাম আরও চড়ে বসে।

আরেক বিক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, রসুন আর আদার বাজারও অনেকটাই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। চীনা আদা বা ভারতীয় রসুন যখন ঠিকমতো আসে না, তখন দাম লাফিয়ে ওঠে। আমরা নিজেরা দাম বাড়াই না, পাইকারি বাজার থেকে যা কিনে আনি, তাই দিয়েই বিক্রি করতে হয়।

অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি চলছে, কিন্তু কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের ভাষ্য, প্রায় প্রতিদিনই বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে পেঁয়াজ-রসুন ও আদার মতো রান্নার অপরিহার্য উপকরণগুলো হঠাৎ চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। অনেকের মতে, সরকারি সংস্থার তদারকি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এর কোনো প্রভাব বাজারে দেখা যায় না।

বাজার করতে আসা গৃহিণী সাইমা আক্তার বলেন, সবকিছুর দামই প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হয় না, তাই কিনে নিতে হয়। কিন্তু খরচ বাড়ার কারণে মাস শেষে সংসার চালানো অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

অন্য ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে বাজার নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি। সাধারণ মানুষের জন্য খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকারের উচিত দ্রুত দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। 

সরকারের সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, গত এক সপ্তাহে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, কিছু পণ্যের দাম কমেছে, আর বেশির ভাগ পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আটা (খোলা), সয়াবিন তেল (লুজ, ২ লিটার বোতল), পাম অয়েল লুজ ও সুপার পাম অয়েল লুজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি মসুর ডাল (ছোট), চিনি এবং ডিমের দামও বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের দৈনন্দিন বাজার ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে রসুন, লবঙ্গ, মুরগি ব্রয়লার এবং এম এস রডের (৬০ ও ৪০ গ্রেড) দাম কিছুটা কমেছে। চা, লবণ ও বিভিন্ন মসলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষায় বেশি মনোযোগী সরকার
অর্থমন্ত্রী মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষায় বেশি মনোযোগী সরকার
এ মাসে আসছে ১১টি কার্গো এলএনজি
এ মাসে আসছে ১১টি কার্গো এলএনজি
বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী
বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী