সংসদে রেজা কিবরিয়া
গরিবের হাতে যাওয়া ১০০ টাকাই অর্থনীতি সচল রাখে

দেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখতে কোটিপতিদের তোষণের পরিবর্তে প্রান্তিক মানুষের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক উপদেষ্টা ও হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া।
তার ভাষায়, ধনীদের অতিরিক্ত অর্থ দিলে তা অনেক সময় সঞ্চয়ে থেকে যায়, কিন্তু গরিব মানুষের হাতে ১০০ টাকা গেলেই সেটি বাজারে ব্যয় হয়, যা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. কিবরিয়া বলেন, অর্থনীতিতে আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি। প্রান্তিক মানুষের ব্যয়ের প্রবণতা বেশি হওয়ায় তাদের হাতে অর্থ পৌঁছালে স্থানীয় বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতি সরাসরি উপকৃত হয়।
তিনি তার প্রয়াত বাবা ও সাবেক অর্থমন্ত্রীর একটি পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, একজন দিনমজুরের দৈনিক আয় দিয়ে কত কেজি চাল কেনা যায়—এই অনুপাতই সাধারণ মানুষের প্রকৃত জীবনমানের অন্যতম সূচক। সরকারের উচিত নিয়মিত এই সূচকের দিকে নজর রাখা।
সরকারের বিনিয়োগ নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু শপিংমল বা বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণে বিনিয়োগ করলে টেকসই প্রবৃদ্ধি আসে না। উৎপাদনমুখী শিল্প ও কারখানায় বিনিয়োগ বাড়ালে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মানুষের আয় বাড়বে।
ব্যাংকিং খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলো কম সুদে আমানত নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করছে। আদর্শভাবে আমানত ও ঋণের সুদের হারের ব্যবধান ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত।
ঋণখেলাপির সংজ্ঞা পরিবর্তনেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, এক বছর সুদ পরিশোধ না করলেও খেলাপি হিসেবে গণ্য না করার ফলে প্রকৃত খেলাপি ঋণের চিত্র আড়াল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬ শতাংশ খেলাপি ঋণই উদ্বেগের কারণ হলেও বাংলাদেশে এ হার ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিদেশি ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্যিক ঋণের পরিবর্তে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থার স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. কিবরিয়া বলেন, দেশের মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে বিনিময় হারের ওপরও চাপ তৈরি হয়। তাই অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ না করলে বছর শেষে ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়, যা অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে তিনি সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ভিওডি বাংলা/এফএ








মন্তব্য