• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
প্রাথমিক শিক্ষার সব দপ্তরকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নির্দেশ কাঁঠাল দিয়ে হচ্ছে শিঙাড়া-সমুচা-কাবাব, রপ্তানির আশা খাদ্যমন্ত্রীর সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ জুলাই এসএসএফ’র দক্ষতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সেজে ফাঁদে ফেলতেন রনি, অর্থ সংগ্রহ করতেন রাকিবুল পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিল ইরান এই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নির্মূলে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে: ডিএমপি কমিশনার পুলিশে বড় রদবদল, একসঙ্গে ১২ কর্মকর্তার বদলি-পদায়ন সীমান্তে অপরাধ দমনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজশাহীতে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকি, ৫৭ শতাংশ বাড়িতে এডিসের লার্ভা

রাজশাহী ব্যুরো    ১২ আগস্ট ২০২৫, ০১:২১ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে বর্ষা মৌসুমে আবারও ছড়িয়ে পড়ছে এডিস মশার লার্ভা। গেল পাঁচবছরের তুলনায় আরও বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে। চলতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে পরীক্ষা করে রাজশাহী নগরীতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ লার্ভা পাওয়া যায়। তবে এর ৩ মাস পরে জুলাই মাসে পরীক্ষা করে নগরীতে ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাড়িতে লার্ভা পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ রাজশাহী মহানগরীর পাঁচটি এলাকায় জরিপ পরিচালনা করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে ২০ ভাগ লার্ভা থাকলে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে রাজশাহীতে রয়েছে কয়েকগুণ বেশি। তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, পুরো নগরীতে ডেঙ্গুর লার্ভা ছড়িয়ে আছে এমন ভাবনা নিয়ে কাজ করছে তারা।

কলাবাগান এলাকায় ১৫টি বাড়িতে সার্ভে করা হয়। ৬টি বাড়ির ৮টি কন্টেইনারে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়। হেতেমখাঁ এলাকায় ৮টি বাড়িতে ১১ টি কন্টেইনারে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মহিষবাথান ৬টি বাড়িতে ৭ টি কন্টেইনারে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। তেরখাদিয়া এলাকায় ৫টি বাড়ির ৬ টি কন্টেইনারে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। শ্রীরামপুর এলাকায় ৭ টি বাড়িতে ১১ টি কন্টেইনারে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে পরীক্ষা করে রাজশাহী নগরীতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ লার্ভা পাওয়া যায়। তবে এর ৩ মাস পরে জুলাই মাসে পরীক্ষা করে নগরীতে ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাড়িতে লার্ভা পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে ভরা মৌসুমে লার্ভার উপস্থিতি ছিল ৪৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। চলতি বছরে সেটি বেড়েছে ১২ শতাংশ। ২০২৩ সালে লার্ভার উপস্থিতি ছিল ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ২০২২ সালে লার্ভার উপস্থিতি ছিল ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ ও ২০২১ সালে লার্ভার উপস্থিতি ছিল ৬৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। রাজশাহীতে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতরের কীটতত্ত্ব টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী বলেন, এটা আমাদের নিয়মিত জরিপ। বছরে তিনবার করা হয়। সাধারণত এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রি মৌসুম, মৌসুম পোস্ট, মৌসুমে এটি করে থাকে। এখন মৌসুম সময়।

তিনি বলেন, আমরা পাঁচটা ওয়ার্ডে ৭৫টা বাড়িতে পরীক্ষা করেছি। সেখানে ৩২টা বাড়িতে ৪৩টা কনটেইনার পজিটিভ পেয়েছি। আমাদের এখানে কাজের ফলাফল হচ্ছে ৫৭ দশমিক ৩৩ ভাগ বাড়িতে লার্ভা পাওয়া গেছে। ২০ শতাংশের বেশি হলে সে এলাকাকে রিস্কি বলা হয়- এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনে আছে। সে অবস্থায় আমরা বলতে পারি রাজশাহীতে আমরা ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছি।

তিনি বলেন, এ অবস্থা আমাদের প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। সে জন্য কনটেইনার ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থা করতে হবে। ফুলের গাছ এমনভাবে রাখতে হবে যেন পানি দিলে পানি নিতে বের হয়ে যায়। আপনার বাসায় যদি ট্যাংকি থাকে সেখানে মশা হবেই। তবে সেখানে মাছ ছেড়ে দিলে সে মশার লার্ভা খেয়ে নিবে এটাকে বলে ম্যানেজমেন্ট। জনসচেতনতা থেকে এটা আমরা রক্ষা পেতে পারি। ডেঙ্গু মশার ছড়িয়ে পড়া রোধে নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে আরও বেশি সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। বর্ষা শুরুর পর থেকে এর মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। গত দুই মাসে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিন শতাধিক ডেঙ্গু রোগী। এরমধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, এ মৌসুমের ডেঙ্গুটা কিন্তু নীরবে শুরু হয়েছে। আমরা একটু সুনির্দিষ্টভাবে বলি গত দুই মাসে এটি তার সর্বোচ্চ জায়গাতে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৫ জন। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত সেবা নিয়েছেন ৩০৫ জন।
প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। বর্ষা শুরুর পর থেকে এর মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। গত দুই মাসে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিন শতাধিক ডেঙ্গু রোগী। এদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি রোগী আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। আগে রোগীদের ঢাকা বা অন্য কোথায় ট্রাভেলিং হিস্টরি পাওয়া যেত। তবে এখন সেটি পাওয়া যাচ্ছে না। তারা স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। আমাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আগে থেকে প্রস্তুত ছিল। আমরা ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করেছিলাম। ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি টিম রয়েছে তারা এসে বা নিশ্চিত করে যাচ্ছে। যাবতীয় ওষুধ স্যালাইন সবকিছু মজুদ করা হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এসময় বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে। সিটি করপোরেশন এলাকায় পরীক্ষা করে স্বাস্থ্য বিভাগ ৫৭ শতাংশ এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে। আমরা মনে করি গোটা রাজশাহী নগরীতে মশা রয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

তিনি আরও বলেন, বর্ষার সময় আমাদের মূল টার্গেট থাকে পানির প্রবাহ যেন কোথাও বন্ধ না হয়। আমরা প্রতিনিয়ত সব জায়গাতে জঙ্গল পরিষ্কার এবং মানুষকে সতর্কতা করার কাজ করে আসছি। তবে মূল কাজটা শুরু হবে আমাদের বর্ষা পরে লার্ভা নিধনের।

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
আর্জেন্টিনার জয়ে মাথা ন্যাড়া করলেন ব্রাজিল সমর্থক
আর্জেন্টিনার জয়ে মাথা ন্যাড়া করলেন ব্রাজিল সমর্থক
স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ