• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

কেন কিছু মানুষকে মশা বেশি কামড়ায়?

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৬ পি.এম.
কেন কিছু মানুষকে মশা বেশি কামড়ায়?
ছবি: সংগৃহীত

গ্রীষ্ম এলেই অনেকের একটি সাধারণ অভিযোগ-একসঙ্গে কয়েকজন থাকলেও মশা যেন শুধু তাকেই বেশি কামড়ায়। অন্যদিকে পাশে থাকা কেউ হয়তো একটি কামড়ও খায় না। দীর্ঘদিন ধরে অনেকের ধারণা ছিল, যাদের রক্ত ‘মিষ্টি’, মশা তাদেরই বেশি পছন্দ করে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি মোটেও রক্তের স্বাদের নয়; বরং শরীর থেকে নির্গত বিভিন্ন জৈব সংকেতই নির্ধারণ করে কে মশার বেশি শিকার হবে।

গবেষকদের মতে, মশা মানুষকে খুঁজে বের করতে কয়েকটি ধাপে কাজ করে।

দূর থেকে তারা প্রথমে মানুষের নিঃশ্বাসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড শনাক্ত করে। এরপর শরীরের তাপ, আর্দ্রতা এবং শেষ পর্যন্ত ত্বক থেকে বের হওয়া গন্ধের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়। মানুষের নিঃশ্বাসের সঙ্গে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড মশাকে প্রায় ১০ মিটার দূর থেকেও আকৃষ্ট করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্করা শিশুদের তুলনায় বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করেন। ফলে তারা সাধারণত মশার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন। এ কারণেই শুকনো বরফ বা বোতলজাত কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে অনেক সময় মশার ফাঁদ তৈরি করা হয়।

শুধু স্ত্রী মশাই মানুষকে কামড়ায়, কারণ ডিম উৎপাদনের জন্য তাদের রক্তের প্রোটিন প্রয়োজন হয়।

শরীর যত গরম, আকর্ষণ তত বেশি

কার্বন ডাই-অক্সাইডের পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা ও ঘামও মশাকে আকৃষ্ট করে। গর্ভবতী নারীরা সাধারণ নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি মশার কামড়ের শিকার হন। কারণ গর্ভাবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা, বিপাকক্রিয়া এবং নিঃশ্বাসের পরিমাণ বেড়ে যায়।

একইভাবে ব্যায়াম করার সময় বা তার ঠিক পরে শরীর গরম হয়ে যায়, ঘাম বাড়ে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বেশি নির্গত হয়। ফলে সে সময় মশা বেশি আকৃষ্ট হতে পারে। যাদের শরীরের গঠন তুলনামূলক বড়, তারাও সাধারণত বেশি তাপ উৎপন্ন করেন এবং বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করেন।

আসল রহস্য ত্বকের গন্ধে

বিশেষজ্ঞদের মতে, কে বেশি মশার কামড় খাবে, তা মূলত নির্ভর করে তার ত্বকের গন্ধের ওপর। মানুষের ত্বকে থাকা কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া ঘাম ও ত্বকের বিভিন্ন উপাদান ভেঙে শত শত ধরনের উদ্বায়ী রাসায়নিক যৌগ তৈরি করে। এসব যৌগ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং মশা সহজেই সেগুলো শনাক্ত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা ৬৪ জনের ত্বকের গন্ধ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, যাদের ত্বকে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাদের প্রতি মশার আকর্ষণও বেশি। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তির প্রতি মশার আকর্ষণ সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় ব্যক্তির তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি ছিল।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন হলেও একজন মানুষের প্রতি মশার আকর্ষণ দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় একই রকম থাকে।

বংশগত প্রভাবও রয়েছে

গবেষণায় দেখা গেছে, অভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে মশার আকর্ষণের মাত্রা প্রায় একই থাকে। কিন্তু অনভিন্ন যমজদের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। এতে ধারণা করা হয়, শরীরের গন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বৈশিষ্ট্য বংশগতভাবেও নির্ধারিত হতে পারে। এ ছাড়া ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। যাদের ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য কম কিন্তু সংখ্যা বেশি, তারা ম্যালেরিয়াবাহী মশার কাছে তুলনামূলক বেশি আকর্ষণীয় হতে পারেন।

সবাই একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না

মশার কামড় খেলেও সবাই একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। কারও শরীরে ছোট একটি লাল দাগ হয়, আবার কারও ত্বক ফুলে যায় এবং দীর্ঘদিন চুলকানি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন এই প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। তাই অনেক সময় মানুষ মনে করেন, তাকে বেশি মশা কামড়াচ্ছে, অথচ বাস্তবে তিনি শুধু বেশি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

মশার কামড় থেকে বাঁচার উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুন খাওয়া বা ভিটামিন বি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে মশা দূরে থাকে-এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মশার কামড় এড়াতে ডিইইটি, পিকারিডিন বা পিএমডি-সমৃদ্ধ রিপেলেন্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। পাশাপাশি পূর্ণহাতা পোশাক, লম্বা প্যান্ট এবং কীটনাশক-প্রক্রিয়াজাত কাপড় ব্যবহার করলে সুরক্ষা বাড়ে। ঘাম হলে বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে রিপেলেন্ট পুনরায় ব্যবহার করাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, কেউ নিজেকে ‘মশার পছন্দের মানুষ’ মনে করুন বা না-ই করুন, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া সবার জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ভিওডি বাংলা/তা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
'আমি রাস্তায়' বলা মানুষগুলো আসলে তখন কোথায় থাকে?
ছবি: সংগৃহীত
ছত্রাকজনিত ব্রণের লক্ষণ, কারণ এবং নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
আপনিও কি গভীর রাতে ফ্রিজকে মিস করেন?