• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আয়তন ছোট হলেও বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নজরুল ইসলাম খান জানান, কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কৃষি কার্ড কর্মসূচি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাবনা অনুযায়ী বিশেষ পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, "কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর মানসম্মতভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন ও রপ্তানির জন্য কার্যকর কোল্ড চেইন এবং রেফ্রিজারেটেড পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এসব অবকাঠামো ও প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।"

বাংলাদেশে আমদানি হওয়া মার্কিন পণ্য বন্দরে খালাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্দরের কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানির অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করতে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

বৈঠকে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মপরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন এবং শ্রম আইন সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হওয়াকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, "সংশোধিত শ্রম আইনে শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা জোরদার, আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ ইতিবাচক।"

নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, "সরকার এমন একটি শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে, একই সঙ্গে শিল্পের উৎপাদন ও বিনিয়োগের পরিবেশও বজায় থাকবে।"

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পখাতে কর্মপরিবেশ ও শ্রমমানের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম শক্তিশালী করা, শ্রমিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। নজরুল ইসলাম খান বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের একটি নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান জরুরি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা এবং মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ অব্যাহত রাখা দরকার।" জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, "এটি একটি জটিল সংকট এবং এর সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।"

শিক্ষা খাতে আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, যোগ্যতা যাচাই এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের বিষয় উঠে আসে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নতুন কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা উন্নয়নে এ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস এ. স্টুয়ার্ট এবং লেবার অ্যাটাশে লিনা খান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামিরও উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা
বিনিয়োগ ও বন্দর উন্নয়নে বাংলাদেশ-সৌদির উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
ছবি: ভিওডি বাংলা
সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম, সংসদমুখী শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ