তরুণীর ফাঁদে পড়ে শেষ পরিণতি মৃত্যু

বলিউডে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১২ সালে দিল্লি থেকে মুম্বাইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন তরুণ ব্যবসায়ী করণ কক্কড়। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে যায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দিকে। প্রায় এক যুগ আগে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্প্রতি ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে।
দিল্লিতে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন ২৮ বছর বয়সী করণ কক্কড়। চলচ্চিত্র জগতে কাজের সুযোগ তৈরির আশায় তিনি মুম্বাইয়ের আন্ধেরির ওবেরয় স্প্রিংসে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে একটি ব্যবহৃত বিএমডব্লিউ গাড়িও কিনেছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, তাঁর আর্থিক সামর্থ্যই তাঁকে অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।
পুলিশের অভিযোগ, তরুণ মডেল সিমরান সুদের সঙ্গে পরিচয়ের পর করণের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সিমরান তাঁকে চলচ্চিত্র জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই বিশ্বাস থেকেই একটি বৈঠকে যোগ দিতে রাজি হন করণ।
তবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, নির্ধারিত বৈঠকের পরিবর্তে তাঁকে একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন গ্যাংস্টার বিজয় পালান্ডে ও তাঁর সহযোগীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, করণকে আটকে রেখে তাঁর এটিএম ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলা হয়। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড দিয়েও কেনাকাটা করা হয়।
তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়, পরে করণকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর তাঁর মরদেহ টুকরো টুকরো করে নিজের বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে মহারাষ্ট্রের কুম্ভারলি ঘাট এলাকায় নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
করণ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ভাই হানিশ কক্কড় মুম্বাইয়ে এসে খোঁজ শুরু করেন। একটি শপিং মলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তিনি দাবি করেন, সেখানে বিজয় পালান্ডে ও ধনঞ্জয় শিন্ডেকে করণের এটিএম কার্ড ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তথ্যগুলো পুলিশকে দেওয়া হলেও শুরুতে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় দিল্লির ব্যবসায়ী অরুণ টিক্কু হত্যা মামলায় বিজয় পালান্ডে গ্রেপ্তার হওয়ার পর। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কুম্ভারলি ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় সেটি করণ কক্কড়ের মরদেহ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র, করণের ব্যবহৃত কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং ব্যাংক লেনদেন-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও উদ্ধার করেন।
এই মামলায় বিজয় পালান্ডে, ধনঞ্জয় শিন্ডে ও মনোজ গাজকোশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা সিমরান সুদ প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।
এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও করণ কক্কড় হত্যাকাণ্ডকে মুম্বাইয়ের অন্যতম আলোচিত ও নৃশংস অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে মামলার অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
সূত্র: এনডিটিভি
ভিওডি বাংলা/তা








মন্তব্য