• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নতুন দায়িত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ এ.এম.
জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান, বিডা চেয়ারম্যান। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান, বিডা চেয়ারম্যান। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ঔষধনীতি কার্যকর বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ শিল্পের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন গঠিত এ পরিষদে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ২৪ জন করা হয়েছে। এতে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আর সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। সরকার জানিয়েছে, জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের ঔষধ খাতের সার্বিক উন্নয়ন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতেই এই পুনর্গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদ বছরে ন্যূনতম দুইবার সভায় বসবে। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন করা যাবে। এছাড়া বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে কো-অপ্ট সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

সরকারের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল স্বাস্থ্য ও ঔষধ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত পর্যালোচনা ও নীতিগত সমন্বয় জরুরি। সে কারণেই পরিষদের কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন পরিষদে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারীকে। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং খাদ্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান ও এনবিআর চেয়ারম্যানকেও পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বিনিয়োগ, করনীতি ও শিল্পখাতের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিষদে আরও থাকছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। শিক্ষা ও গবেষণা খাত থেকে সদস্য করা হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যানও সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে রাখা হয়েছে এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতিদের।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে পরিষদের দায়িত্ব ও কার্যপরিধিও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারকে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। পাশাপাশি দেশীয় ঔষধ শিল্পের বিকাশ, অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনুযায়ী ঔষধ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা প্রণয়ন ও নিয়মিত হালনাগাদ করার বিষয়েও সুপারিশ করবে।

এ ছাড়া ঔষধ ও কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন এবং রপ্তানি সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়েও পরিষদ সরকারকে মতামত প্রদান করবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ঔষধ উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয় আনতেও এ পরিষদ কাজ করবে। বিশেষ করে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানে পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফাইল ছবি
ফ্যাসিস্ট আ. লীগ আমলে বঞ্চিত ১৫০ সামরিক কর্মকর্তার পুনর্বাসন
ফাইল ছবি
পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ফাইল ছবি
সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এলো নতুন মহাপরিচালক