শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জাতিসংঘ স্বীকৃত ‘গণহত্যার’ বিচার করা হবে এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই)জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬ যথাযথ মর্যাদায় পালন উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেনতিনি।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং অন্য কোনো দেশের ‘সেবাদাসে’ পরিণত হবে না। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম উপাদান ছিল বাংলাদেশকে ভারতের ‘সেবাদাসে’ পরিণত করার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শেখ হাসিনা আবার দেশে ফিরবেন- এমন প্রচার চালানো হচ্ছে। শেখ হাসিনার সহযোগীরা দেশের ভেতরে বিভিন্নভাবে সক্রিয় হয়ে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
অতীতেও শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তাঁরা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’ স্লোগান দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারামুক্ত হয়ে রাজপথে ফেরার পরও একই ধরনের স্লোগান দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতিসংঘ স্বীকৃত ‘গণহত্যার’ বিচার করা হবে এবং সেই বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, গেজেটভুক্ত ৮৪৩ জন শহীদের পাশাপাশি অনেকে এখনো তালিকাভুক্ত হননি। তথ্যের অভাব বা অন্য যেকোনো কারণে বাদ পড়া ব্যক্তিদেরও তালিকাভুক্ত করতে সরকার কাজ করবে।
তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্ভুল শহীদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি শহীদদের জীবনবৃত্তান্ত, আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁদের ভূমিকা এবং যেসব তথ্যচিত্র পাওয়া যাবে, সেগুলো সংরক্ষণ করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন ও জুলুমের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, তারই বিস্ফোরণ ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। ছাত্র-জনতা দলমত নির্বিশেষে এক কাতারে নেমে এসে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ অনেকে।
ভিওডি বাংলা/আর/এফএ








মন্তব্য