• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

ইরান-সৌদি সমঝোতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি, আলোচনায় পাকিস্তান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৭ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: ভিওডি বাংলা গ্রাফিক্স
ছবি: ভিওডি বাংলা গ্রাফিক্স

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে পাকিস্তান গোপনে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি-সদৃশ একটি সমঝোতা করিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার বিনিময়ে ইরানের তেল গোপনে পাকিস্তানে রপ্তানির ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হয়।

প্রতিবেদনটি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশ করা হয়েছে।

যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগকে সামনে এনে মধ্যস্থতা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় গত মার্চের শেষ দিকে এই সমঝোতা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল।

দাবি করা হয়েছে, আসিম মুনির ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ বাহিদির সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত একটি তেল পরিবহন উদ্যোগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি সামনে এনে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।

গোপনে তেল পরিবহনের দাবি

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকে একটি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নীরবে ইরান থেকে পাকিস্তানে তেল পরিবহন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি দুই সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধের মধ্যেও এ কার্যক্রম থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা অর্জন করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তেল পরিবহন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টিই সমঝোতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সমঝোতার পর সৌদির ওপর হামলা কমে যাওয়ার দাবি

মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের প্রথম দিকে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ইরানের হামলার মুখে পড়লেও সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের ওপর হামলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

তবে প্রায় তিন মাস পর গত সপ্তাহান্তে ইরান সৌদি আরবের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এরপর আসিম মুনির আইআরজিসি প্রধান আহমাদ বাহিদিকে সতর্কবার্তা পাঠান বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এরপর থেকে সৌদি আরবের দিকে ইরানের আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কেন সক্রিয় ছিল পাকিস্তান?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যেখানে দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসনকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ ছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রিয়াদকে ইসলামাবাদের ওপর আরও নির্ভরশীল করে তোলার আগ্রহও পাকিস্তানের ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ কারণেই আসিম মুনির এই মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

সমালোচনার মুখে সমঝোতা

মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিকের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমঝোতা কার্যত এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা চলমান যুদ্ধে হামলার লক্ষ্যবস্তু না হওয়ার বিনিময়ে ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছ থেকে যে অর্থ বা সুবিধা দাবি করছে, তাকে এক ধরনের ‘মুক্তিপণ’ হিসেবে বৈধতা দিয়েছে।

তবে গোপন এই সমঝোতার বিষয়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহিত
ভারতের তরুণদের আন্দোলন কোথায় গিয়ে থামবে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জব্দ ইরানি সম্পদ দিয়ে জাহাজের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহিত
ভূমিকম্পের এক মাস পরও ধ্বংসস্তূপে লাশ, স্বজনের অপেক্ষায় একটি দেশ