সিলেটে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
টানা বৃষ্টি ও ভারতের আসাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে, আবার কোথাও কোথাও তা অতিক্রমও করেছে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার পানি বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
অন্যদিকে, কুশিয়ারা নদীর পানি অমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমা স্পর্শ করেছে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে শেওলা ও শেরপুর পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। এ ছাড়া সারিগোয়াইন, পিয়াইন, লোভা ও ধলাই নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ, দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতেরও আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলায় ৫৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া ১০ হাজার ৩১৯ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১ হাজার ২৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য, ৪৮ বান্ডিল ঢেউটিন, ১৭৫ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ১০ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪১০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ১৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত জেলায় বন্যাজনিত উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কোথাও পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেনি। অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ধসে হতাহতের কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১৩টি উপজেলায় ১০৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ প্যাকেট খাবার স্যালাইন, ১ লাখ ৪২ হাজার ২০০টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১০ হাজার ২১৫ প্যাকেট কলেরা স্যালাইন, ১৭৬ ভায়াল অ্যান্টি-সাপের বিষ প্রতিষেধকসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুদ রাখা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, টানা বৃষ্টি ও আসামের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। কোনো কোনো পয়েন্টে পানি সাময়িকভাবে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে স্থানীয় বৃষ্টির তুলনায় উজানের ঢলই পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
তিনি আরও বলেন, আসামের বন্যার পানি বরাক নদী হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা দিয়ে মেঘনা হয়ে দ্রুত বঙ্গোপসাগরের দিকে নেমে যাচ্ছে। ফলে পানি সাময়িকভাবে বিপৎসীমার কাছাকাছি বা কিছুটা ওপরে গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা কম। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘালয় অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস নেই। তাই নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, সিলেটে এখনো পূর্ণাঙ্গ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে টানা বৃষ্টির কারণে যেকোনো সময় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পর্যাপ্ত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম পাঠানো হবে।
ভিওডি বাংলা/আ









মন্তব্য