পহেলগাম হামলায় হাফিজ সাঈদকে মূল অভিযুক্ত করল এনআইএ

ভারতের কাশ্মীরের পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলা মামলায় বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদকে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
সোমবার (৬ জুলাই) জম্মুর বিশেষ আদালতে এই সম্পূরক চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এতে হাফিজ সাঈদ ছাড়াও লস্করের সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)কেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এনআইএ মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন দাখিল করা এই অভিযোগপত্রটি মূলত আগে জমা দেওয়া ১ হাজার ৫৯৭ পৃষ্ঠার মূল চার্জশিটেরই একটি অংশ। সংস্থাটির দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) ২০২৩ এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ) ১৯৬৭-এর একাধিক কঠোর ধারায় মামলা আনা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং সীমান্ত পেরিয়ে নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামে চালানো হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গভীর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের প্রমাণের ভিত্তিতে এই সম্পূরক অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে হামলার পেছনে পাকিস্তানভিত্তিক পরিকল্পনা এবং হাফিজ সাঈদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এই মামলার মূল চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। সেখানে পাকিস্তানি হ্যান্ডলার সাজিদ জাটসহ তিন সন্ত্রাসীকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ‘অপারেশন মহাদেব’ চলাকালে ওই তিনজন নিহত হয়। একই সঙ্গে হামলাকারীদের সহায়তার অভিযোগে দুই স্থানীয় বাসিন্দাকেও গ্রেপ্তার করে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এবারের চার্জশিটে শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) এবং টিআরএফকেও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দায়ী করা হয়েছে। এনআইএ’র ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা ছিল সংগঠিত পরিকল্পনার অংশ এবং এতে একাধিক স্তরে সমন্বিত নাশকতামূলক কাঠামো কাজ করেছে।
এফআইআর সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর প্রথমে পহেলগাম থানায় মামলা রুজু করে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলাটি এনআইএ’র হাতে হস্তান্তর করা হয়।
এনআইএ সোমবার আরও জানায়, সীমান্তের ওপার থেকে পাকিস্তানের সরাসরি মদদে পরিচালিত এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় উৎখাতে তাদের তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য