• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

চাচার মৃত্যুবার্ষিকীতে ইশরাক হোসেনের স্মৃতিময় বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৬ জুন ২০২৬, ০২:০৫ পি.এম.
ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ছবি: ভিওডি বাংলা
ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ছবি: ভিওডি বাংলা

একমাত্র আপন চাচা মরহুম আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে স্মৃতিচারণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, এমপি।

শুক্রবার (২৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, তিনি যেন তাঁর চাচাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।

স্ট্যাটাসে ইশরাক হোসেন বলেন, ছোটবেলায় উজ্জ্বল কাক্কাই ছিলেন তাঁর সব আবদার পূরণের একমাত্র মানুষ। বাবা রাজনৈতিক জীবনে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকায় তাঁর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কম ছিল। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলে থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে অধিকাংশ সময়ই তিনি বাসার বাইরে থাকতেন।

তিনি বলেন, উজ্জ্বল কাক্কার কোলে-পিঠেই তাঁর বেড়ে ওঠা। ক্রিকেটের টেনিস বল এনে দেওয়া, আইসক্রিম, কোক কিংবা ফান্টা কিনে দেওয়া, ভিডিও ক্যাসেট এনে কার্টুন দেখানো, স্কুল থেকে নিয়ে আসা—শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাঁর ভাষায়, শৈশবের স্মৃতিতে বাবার চেয়েও বড় একটি অংশজুড়ে আছেন উজ্জ্বল কাক্কা।

২০১৯ সালে উজ্জ্বল হোসেনকে অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠানো হয় বলে দাবি করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, দুই কিডনি বিকল হয়ে ট্রান্সপ্লান্ট করা একজন গুরুতর অসুস্থ রোগী হওয়ার পরও শুধু সাদেক হোসেন খোকার ভাই হওয়ার কারণে তাঁকে কয়েক মাস বিনা চিকিৎসায় কারাগারে রাখা হয়। ডায়াবেটিসের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তিও প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। সব মেডিক্যাল রিপোর্ট ও চিকিৎসকদের মতামত উপেক্ষা করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে ওই সময়ের বিচারক, আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সমালোচনা করেন ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা করেও কোনো মানবিকতা পাননি।

চাচার ব্যক্তিজীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সব সময় মজলুমের পক্ষেই দাঁড়াতেন উজ্জ্বল হোসেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় তাঁরা নীতি-আদর্শ রক্ষায় অবিচল থাকতে শিখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, প্রতিবাদী মানুষ ও নীতিবানদের অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ডেপুটি জেলার জাহিদ তাঁর কষ্ট কিছুটা লাঘবের চেষ্টা করলেও অসুস্থতার সব মেডিক্যাল রিপোর্ট থাকার পরও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

২০২০ সালের জুনে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর উজ্জ্বল হোসেনের জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ বেড পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেন, যে হাসপাতাল ভবনটি একসময় মেয়র খোকার সহযোগিতায় চালু হয়েছিল, সেখানেও তাঁর ভাই কোনো গুরুত্ব পাননি। ক্ষমতায় থাকার সময় যাঁরা বিভিন্ন কাজে আসতেন, তাঁরাও পরে ভুলে যান বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে ইশরাক হোসেন বলেন, জীবনের শেষ দিকে তাঁর চাচা বলেছিলেন, ‘আমাকে একবার গাড়িতে পতাকা নিয়ে ঘুরাবা না, কাক্কা?’

তিনি আরও লেখেন, ‘হ্যাঁ, মন্ত্রী হয়েছি তো কী হয়েছে? জনগণের কথা বলে যাব, সংগ্রামের ভাষায় বলে যাব। এই শহরের অলিগলিতে আমরা মৃত্যুর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে চলি। তোমরা চলো তো?’

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
গুম হওয়া ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমরা আর সম্পৃক্ত হতে চাই না: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকাকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে কাজ করছে সরকার: মীর শাহে আলম
ছবি: সংগৃহীত
দুই-একদিনের মধ্যে মাদক আইনের সংশোধনী উপস্থাপন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী