• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
উত্তরায় পুলিশের অভিযানে ১১টি আইফোন ও স্বর্ণালংকারসহ গ্রেপ্তার ৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন: মামলা প্রত্যাহারের পথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু গ্যাস সংকট: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন তারেক রহমান এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদন কবে শুরু মিরপুরে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি, গৃহকর্মীসহ গ্রেপ্তার ২ ছাত্রদলের গেঞ্জি পরে সারজিস-পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ স্বাস্থ্যসেবায় ইম্পেরিয়াল-কেডিআরএফের যৌথ উদ্যোগ ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫১২ ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি রাজধানীতে কলেজের দেয়াল ধসে নিহত ২ আহত ৮

ক্ষমতার পদ পরিবর্তনকে সামনে রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে ধ্বসিয়ে দেওয়ার সুযোগ নাই- এবি পার্টি


প্রকাশ:  ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৩৮ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ক্ষমতার পদ পরিবর্তনকে সামনে রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে ধ্বসিয়ে দেওয়ার সুযোগ নাই- এবি পার্টি

বাংলাদেশ একটি নদী বিধৌত অঞ্চল হওয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোন বিকল্প নেই। বিশেষ করে চরাঞ্চল, দ্বীপ এলাকা, পার্বত্য অঞ্চল সহ প্রচুর দূর্গম এলাকা রয়েছে যেখানে বিদ্যুতের মুল সংযোগ থেকে ঐসমস্ত এলাকার জনগণেকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর বাইরে পরিবেশগত জটিলতায় গোটা পৃথিবীই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাচ্ছে।

এখন পরিবেশ দূষণ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায় আগামী একদশকে বিদ্যুতের চাহিদা দ্বিগুণ হতে পারে। যার ফলে বহু নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেক বেশি। এমতাবস্থায় ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই বিনিয়োগ বাধাগ্রস্থ করার কোন সুযোগ নাই বলে দাবি করেছেন এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। 
আজ আমার বাংলাদেশ পার্টি- এবি পার্টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত নিয়ে সরকারের করনীয় বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক বিএম নাজমুল হক, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, সিনিয়র সহকারী সদস্য সচিব এবিএম খালিদ হাসান। 
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত নিয়ে নিম্নোক্ত ১০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন:

১. দীর্ঘ মেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়া আমাদের অন্য কোনো বিকল্প নেই। তাই এক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকে কোনো ভাবেই বাধা দেওয়া যাবে না। যে সমস্ত প্রকল্পগুলো LOI (Letter of Intent বা সরকার থেকে কাজের ইচ্ছাপত্র) প্রাপ্ত হয়েছে সেগুলোতে "NO electricity, No pay" ভিত্তিতে উৎপাদন সচল করতে হবে, তার মানে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জের নামে দেশের টাকা অপচয়ের সুযোগ নেই। প্রয়োজনে পুনঃ দরকষাকষি করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন নিশ্চিত করে মহা দুর্নীতির প্রকল্পসমূহ আর নবায়ন না করে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে হবে। প্রায় ২৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম ৩৪ টি কোম্পানীকে, যাঁদের অধিকাংশগুলোতে বিদেশী বিনিয়োগ আছে, কাজ চলমান রাখার অনুমতি দিতে হবে। অনেক কোম্পানী ইতিমধ্যেই কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছে; এতে বিদেশী বিনিয়োগ অনুৎসাহিত হবে, ব্যবসা বান্ধব দেশের তালিকাতে আমরা পিছিয়ে পড়ব আর হাজার হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রকে গচ্ছা ও ক্ষতিপূরন দিতে হবে দেশী এবং বিদেশী আদালতে। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশী বিনিয়োগ, ৬০ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের, এবং দেশের বদনাম কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য হতে পারে না; 

২. নবায়নযোগ্য জ্বালানি মূল্য কমাতে সরকারি উদ্যোগে অনাবাদি খাস জমি ও চরাঞ্চলগুলোকে বাছাই করে সেখানে সঞ্চালন লাইন তৈরি করে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে; 

০৩. বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চারটি চরে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যে যে সম্ভাবনা পরীক্ষা চলমান সেটা দ্রুত শেষ করে সেখান থেকে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে; 

৪.⁠ লক্ষ লক্ষ ডিজেল চালিত সেচের মেশিনকে সোলার প্যাম্পে রূপান্তরিত করতে হবে, এতে যেমন উৎপাদন খরচ কমবে ঠিক তেমনি আমাদের ডলার দিয়ে বিদেশ থেকে ডিজেল কম কিনতে হবে; 

৫.⁠ গ্যাস/বিদ্যুতের কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি ছাদ মালিক ও বিনিয়োগকারী কোম্পানির সাথে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে নেট মিটারিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে বাড়ীর ছাদে স্থাপিত সোলার থেকে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে; 

০৬. দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুতায়িত গাড়ী উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে, সেক্ষেত্রে উদ্যোক্তা এবং গ্রাহকদের সমন্বিত বিনিয়োগের জন্য উত্সাহিত করতে হবে; 

০৭.⁠ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবহ্নত সোলার প্যানেল, ইনভার্টার সহ প্রয়োজনিয় পণ্যে কর শূন্যে বা নূনতম পরিমানে নামিয়ে আনতে হবে; 

০৮. দরকার হলে বাংলাদেশ কে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে "FEED and Tariff" দিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে হবে; 

০৯. ভুটান ও নেপাল থেকে ডেডিকেটেড ট্রান্সমিশন লাইন করে কিভাবে কমমূল্যে জলবিদ্যুৎ আমদানি করা যায়, যদি কখনো একান্ত প্রয়োজন হয়, তার পদক্ষেপ নিতে হবে; 

১০.⁠ অফ পিক আওয়ারে (দিনের তুলনামূলক কম ব্যস্ত সময়ে) কম মূল্যে বিদ্যুৎ ব্যাটারি স্টোরেজের মাধ্যমে মজুদ করে ব্যস্ত সময়ে ব্যবহার, স্ট্যাবল ট্রামিশন সিস্টেম ও চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিনের যুগ্ম সদস্য সচিব সফিউল বাসার, আহমদ বারকাজ নাসির, কেফায়েত হোসেন তানভীর, মহানগর উত্তরের যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুর রব জামিল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মশিউর রহমান মিলু, শরণ চৌধুরী, আমেনা বেগম, সুমাইয়া শারমিন ফারহানা সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
আপা যেখানেই নামবে সেখানেই ফাঁসি বাস্তবায়ন করবে জনতা: পাটওয়ারী
ছবি: সংগৃহীত
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত, আহ্বায়ক কমিটি গঠন
ফাইল ছবি
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি