জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
এবারও পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন আ’লীগের দোসর ও বির্তকিত শিল্পী কোনাল !

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তবে গেল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল এই পুরস্কার নিয়ে নানা বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যা নিয়ে অসন্তোষ দেখা যেত চলচ্চিত্র অঙ্গনে। কেবল আলোচনা-সমালোচনাই নয়, বিগত সরকারের সময়ে শিল্পীকে দেওয়া পুরস্কারের সিদ্ধান্তে আদালতে রিটও হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীনদের উচ্চমহলের তদবিরে সেই পুরস্কার বহাল থেকেছে।

এদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী অধ্যায়ে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শিল্পী-কুশলী-সমালোচকদের কাছে। কারণ বরাবরই এই পুরস্কারটি অভিযুক্ত হয়ে আসছে যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। সেই বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের বিচারে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হবে ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর ভিত্তিতে। যার বিচার-বিশ্লেষণ এরইমধ্যে শেষ। অপেক্ষা শুধু প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা।
ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য পুরস্কার বিজয়ীদের কয়েকটি নাম-পরিচয়ের সন্ধান মিলেছে অসমর্থিত সূত্রে। যেখানে পূর্বের বিতর্কিত শিল্পীর নামও রয়েছে বলেই জানা গেছে।

সম্ভাব্য তালিকায় গানের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমাটি। এই সিনেমায় গানের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক’ ও ‘শ্রেষ্ঠ সুরকার’-এর সম্ভাব্য তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন প্রিন্স মাহমুদ। একই সিনেমার ‘ঈশ্বর’ গানের জন্য সোমেশ্বর অলি ‘শ্রেষ্ঠ গীতিকার’ এবং ‘শ্রেষ্ঠ গায়ক’ হিসেবে রিয়াদ জুরি বোর্ডের নম্বরে এগিয়ে রয়েছেন। এ সিনেমার ‘ও প্রিয়তমা’ গানের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ গায়িকা’ হিসেবে এগিয়ে আছেন সোমনূর মনির কোনাল। একই গানের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ গায়ক’ হিসেবে বালাম রয়েছেন তালিকার শীর্ষে।

এই তালিকা প্রকাশের পর থেকেই কোনালের নাম থাকায় চলচ্চিত্র ও সংগীত অঙ্গনের অনেকের মধ্যেই দেখা গিয়েছে অসন্তোষ। কারণ এর আগেও বিতর্কিত গানে কণ্ঠ দিয়ে পুরস্কৃত হয়েছিলেন কোনাল।
চিত্রনায়ক শাকিব খান অভিনীত ‘বীর’ চলচ্চিত্রের ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’ শিরোনামে গানে কণ্ঠ দিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন কোনাল। কিন্তু পুরোনো সিনেমা ‘অবুঝ হূদয়’র ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’ জনপ্রিয় গানের ব্রিজলাইনটুকু নিয়ে ‘বীর’ সিনেমার ‘ভালোবাসার মানুষ তুমি’ গানটি তৈরি করা হয়। এতে কণ্ঠ দিয়েই কোনালের পুরস্কার প্রাপ্তিতে বিব্রত হন চলচ্চিত্র ও সংগীতাঙ্গণের মানুষরা।
বিতর্কের শেষ এখানেই নয়, কোনালের পাওয়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বাতিল চেয়ে হাইকোর্টেও রিট দায়ের করা হয়। যদিও সেই রিটে কোনও লাভ হয়নি। কারণ আওয়ামী লীগের উচ্চ মহলের অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ বিদ্যমান ছিল কোনালের। সেই ক্ষমতার জেরেই পুরস্কার বাগিয়ে নেন তিনি।
এ কারণেই এবার সম্ভাব্য তালিকায় কোনালের নাম থাকায় অনেকেই হতাশ হয়েছেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকের ভাষ্য, সে যদি পুরস্কার পান সেটা হবে বিল্পবী সরকারের হাতে দোসরের পুরস্কার প্রাপ্তি।
উল্লেখ, স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর কণ্ঠশিল্পী কোনাল। তিনি শেখ হাসিনার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকনের বান্ধবী। গতবার নকল গান গেয়ে শুধুমাত্র ক্ষমতার জোরে পুরস্কার ভাগিয়ে নেন, তার বিরুদ্ধে ওই সময় আদালতে রিটও হয়েছিল কিন্তু তারপরও তাকে পুরস্কার দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ। সবশেষ জুলাই ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতাকারী কোনাল যদিও এখন সব ছবি ও স্ট্যাটাস ডিলিট করে দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রচারণা মূলক কর্মকাণ্ডে দেখা গেছে কোনালকে। শুধু তাই নয় ফ্যাসিস্ট ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যেত তাকে। এছাড়াও দলটির বিভিন্ন মহলে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তার।
ভিওডি বাংলা/এমপি/এমএইচ







