সেই শিক্ষিকার ভাইরাল রিল নিয়ে মুখ খুললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের শিল্পী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে জনপ্রিয় বাংলা গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’। গানটির সঙ্গে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এক স্কুলশিক্ষিকার করা রিল ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে এবার নিজের মতামত জানিয়েছেন গানটির কণ্ঠশিল্পী ও ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল মেজবাহ রহমান।
ফেঞ্চুগঞ্জের স্কুলশিক্ষিকা বিউটি পাল সম্প্রতি ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি ব্যবহার করে একটি রিলস ভিডিও তৈরি করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় বিতর্ক। এমনকি স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে শিক্ষিকার সহকর্মীদের একটি অংশ তার পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন। তারা একই গান ব্যবহার করে রিলস তৈরি করে নিজেদের সমর্থনের কথাও জানান।
শুধু সহকর্মীরাই নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেও বিউটি পালের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবেও অনেকে বেছে নিয়েছেন সেই গানটিকেই।
এদিকে, গানটির জনপ্রিয়তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেজবাহ রহমান জানান, ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ মূলত বর্ষা ও প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি একটি গান। ১৯৮৯ সালে গানটি তৈরি করার পর ১৯৯০ সালে এটি প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ ৩৬ বছর পেরিয়ে গেলেও গানটির জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং নতুন প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে গানটি আবারও নতুন করে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
বিউটি পালের রিল প্রসঙ্গে মেজবাহ রহমান বলেন, শিক্ষকদের প্রতি মানুষের আলাদা সম্মান রয়েছে এবং শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়। তবে ওই শিক্ষিকার ভিডিওতে তিনি আপত্তিকর বা নেতিবাচক কোনো বিষয় দেখেননি। তাই শুধু একটি ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে কাউকে দোষারোপ করা উচিত নয় বলেই মনে করেন তিনি।
মেজবাহ রহমানের ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নানা প্রয়োজনে সবাইকেই এর ব্যবহার করতে হয়। তাই কোনো ঘটনার একটি দিক দেখেই সেটিকে নেতিবাচকভাবে বিচার করা ঠিক নয়।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জ শিক্ষা বিভাগ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরেও এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন মেজবাহ রহমান। তার মতে, ভিডিওটিতে নেতিবাচক কিছু না থাকায় বিষয়টি কঠোরভাবে না দেখে বরং নমনীয় দৃষ্টিতে বিবেচনা করা উচিত।
ভিওডি বাংলা/এফএ









মন্তব্য